ঢাকার দোহার উপজেলার ডায়ারকুম এলাকায় করুনাময় খালের ওপর এলজিইডির নির্মিত সেতু একাংশ ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ঢাকা-দোহার-শ্রীনগর সড়কে হওয়ায় এ সেতু এখন মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন। সড়কটি পদ্মা বাইপাস নামেও পরিচিত। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে অবস্থিত সেতুটির একাংশ ভেঙে পড়ায় যানবাহন চালক ও যাত্রী এবং স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ চলাচলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এছাড়া সেতুটি যে খালের ওপর অবস্থিত সেই খাল পাড়ের গার্ড ওয়াল ভেঙে ঝুঁকিতে রয়েছে সেতুসংলগ্ন সড়কটি।

স্থানীয়রা জানান, ১৯৮৯ সালে করুনাময় খালের ওপর এলজিইডি সেতুটি নির্মাণ করে। এরপর আর এ সেতু সংস্কার করা হয়নি। এর পর থেকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও সেতুটি সংস্কারের উদ্যোগ নেই। বরং বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির মাঝ বরাবর কংক্রিট ধালাই ধসে গর্ত ছিদ্র হয়ে গেছে। এক পাশের রেলিং ভেঙে খালে পড়েছে অনেক আগেই। দুর্ঘটনা এড়াতে সেতুটির ছিদ্র হওয়া স্থানে এলাকাবাসী একটি সিমেন্টের বস্তা ঝুলিয়ে দিয়েছে। সেতুর মাঝখানে ছিদ্র ও এক পাশে রেলিং না থাকায় মাত্র ৫-৬ ফুট অংশ দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলছে। স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দ্রুত অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণ না করলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

ডায়ারকুম গ্রামের রতন চোকদার জানান, সেতুটির অবস্থা জরাজীর্ণ। এরই মধ্যে সেতুর এক পাশের রেলিংও ভেঙে গেছে। গত বছর সেতুর মাঝের অংশের পলেস্তারা ভেঙে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এলাকাবাসীর উদ্যোগে মেরামত করা হয়। এক সপ্তাহ আগে আবার সেতুর মাঝের কিছু অংশের পলেস্তারা খসে পড়েছে। এলাকাবাসী ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে চিহ্নিত করে দিয়েছে। তবু ঝুঁকি নিয়েই যানবাহন চলাচল করছে।

পার্শ্ববর্তী বোয়ালী গ্রামের গৃহবধূ আসমা বলেন, বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীর সঙ্গে যুক্ত আমাদের এ করুনাময় খালের স্রোতে এখানকার সড়কটির গার্ড ওয়াল ভেঙে সড়ক দেবে যায়। সেতুর অবস্থাও নাজুক। ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে।

কৃষক মাসুদ রানা বলেন, সুতারপাড়া গ্রাম থেকে আমরা কয়েকজন কৃষক আড়িয়ল বিলে ঘাস কাটতে যাই। নাজুক ব্রিজটি ভেঙে গেলে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফাহিম রহমান খান বলেন, আমরা জানতে পেরেছি সেতুটির কথা। সড়ক ও সেতুটির সমস্যার সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।