পাবনা জেলায় উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের। প্রণোদনার অর্থ যথাযথভাবে কৃষকদের মাঝে বিতরণে ব্যর্থ হওয়ায় এবার আবাদ কম হয়েছে বলে দাবি চাষীদের। অথচ একই সময়ে প্রেরিত প্রণোদনায় বেশ কয়েকটি জেলা পেঁয়াজের আবাদ বৃদ্ধি করতে সমর্থ হয়েছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রায় ২ হাজার টাকা মণ দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে সেটা প্রকারভেদে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত রবি মৌসুমে পাবনা জেলায় ৫২ হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করা হয়েছে। প্রণোদনার ৬ কোটি টাকা যথাযথভাবে বিতরণ না হওয়ায় তা ফেরত গেছে। প্রণোদনার অর্থে কৃষকদের সার-বীজ সরবরাহ করলে আবাদ প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে উন্নীত করা সম্ভব হতো। জেলার কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তার অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি বলে দাবি পেঁয়াজ চাষীদের। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাঠ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, প্রণোদনার অর্থে সার-বীজ সরবরাহ করলে পেঁয়াজের আবাদ বেশি করা সম্ভব হতো।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পাবনা সদর, সুজানগর, সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলায় পেঁয়াজের আবাদ বেশি হয়ে থাকে। এসব এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি সহায়তা পেলে তারা আরো পেঁয়াজের আবাদ করতে সমর্থ হতো। সুজানগরের ভায়না, সাতবাড়িয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নে পেঁয়াজের জমিতে অলাভজনক ফসল আবাদ করেছে তারা। একই অবস্থা জেলার অন্যান্য উপজেলাতে। খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, পাবনাতে প্রদত্ত প্রণোদনার অর্থ দ্বারা পেঁয়াজ বীজ খরিদ করতে গড়িমসি করে পাবনা কৃষি দপ্তর। পাবনা আঞ্চলিক বীজ বিপণন কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের মাধ্যমে বীজ খরিদ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু পাবনা কৃষি দপ্তর সে পথে না গিয়ে কালক্ষেপণ করে মৌসুম শেষের দিকে বীজ অঙ্কুরোদ্গম ব্যাহত হওয়ার অজুহাতে প্রণোদনার অর্থ ফেরত দেয়। অথচ একই সঙ্গে প্রেরিত প্রণোদনার অর্থ কাজে লাগিয়ে কৃষকদের দিয়ে পেঁয়াজ আবাদ বৃদ্ধি করে ফলনও বৃদ্ধি করতে সমর্থ হয়েছে নাটোর জেলা।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, গত রবি মৌসুমে পাবনায় পেঁয়াজের উৎপাদন হয়েছিল ৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪৮ টন। বর্তমানে প্রায় পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ পাবনাতে মজুদ আছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার পেঁয়াজ চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মধ্যম শ্রেণীর চাষীদের ঘরে কোনো পেঁয়াজ নেই। তবে বুনিয়াদি চাষীদের ঘরে সামান্য পেঁয়াজ রয়েছে। গত বছর পেঁয়াজের দাম পাওয়ায় তারা প্রায় তিন লাখ টন পেঁয়াজের মজুদ রাখেন। বর্তমান পেঁয়াজের বাজার ঊর্ধ্বগতি থাকায় সেটাও বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেছেন তারা। আসন্ন কোরবানির ঈদের আগে মজুদকৃত পেঁয়াজ অর্ধেকে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান চাষীরা।

সুজানগর উপজেলার পেঁয়াজ চাষী আ. সালাম চড়ুই, মধুপুরের আ. রহমানসহ বেশকিছু প্রান্তিক চাষীর দাবি, প্রণোদনার অর্থ যথাযথভাবে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করলে জেলাতে এবার প্রায় ১০ লাখ টন পেঁয়াজ উত্পন্ন করা সম্ভব হতো।

মাসুমদিয়া গ্রামের সিদ্দিকুল্লাহ, চাকলা গ্রামের নজরুল ইসলাম, গুলচন্দ্রপুরের আ. হামিদ বাবু, কালিকাপুরের আজিজুর রহমান ব্যাপারী, দই পাড়া গ্রামের আক্কাস আলী, বড়খাঁপুর গ্রামের মীর আমির আলীসহ বেশকিছু পেঁয়াজ চাষীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তাদের ঘরে কোনো পেঁয়াজ নেই। পেঁয়াজের দাম ওঠানামা করায় তারা পেঁয়াজ বিক্রি করে ফেলেছেন। তারা জানান, বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রায় ২ হাজার টাকা মণ দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে সেটা প্রকারভেদে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পচনশীল এ পণ্যটি ঘরে রাখতেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

এ ব্যাপারে পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আ. কাদের জানান, প্রণোদনার টাকা দেরিতে পাওয়ায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।