দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। জাতীয় উন্নয়নে উদ্ভাবনী সমাধান প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজধানীর নভোথিয়েটারে আজ সকালে ‘আগামীর শক্তি: পরিচ্ছন্ন ও বিকল্প জ্বালানির উদ্ভাবনী সমাধান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে মেধাবী বিজ্ঞানী, গবেষক, উদ্ভাবক, প্রযুক্তিবিদ ও তরুণ উদ্যোক্তার পাশাপাশি বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের মেধা, জ্ঞান ও উদ্ভাবনী শক্তিকে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে মানবসম্পদকে জাতীয় সম্পদে পরিণত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, শুধু মুনাফা অর্জনের আগ্রহ বা উদ্যোক্তার একটি ধারণা থাকলেই উদ্ভাবনী সমাধান বাস্তবায়ন করা যায় না। এ জন্য উদ্যোক্তাদের সঙ্গে উদ্ভাবনী ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি, বিজ্ঞানী, গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন উপাদানকে সমন্বিত করে কার্যকর একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্ঞান ও উদ্ভাবন অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। উৎপাদন সক্ষমতার পাশাপাশি জ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সক্ষমতা ও পুঁজির সমন্বয়ে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো দেশকে এই পরিবর্তিত বাস্তবতা গভীরভাবে উপলব্ধি করে নিজস্ব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।
পরিষ্কার ও বিকল্প জ্বালানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সৌরশক্তি, বায়ু ও পানিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব সম্পদের সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ও কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সুরক্ষায়ও অবদান রাখা যাবে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের যেসব উদ্ভাবনী সম্ভাবনা এখনো যথাযথভাবে চিহ্নিত বা কাজে লাগানো হয়নি, সেগুলো খুঁজে বের করতে হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনগুলো চিহ্নিত করে বিজ্ঞানী, গবেষক, উদ্যোক্তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোকে একটি কার্যকর প্লাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, উদ্ভাবনী সমাধান বাস্তবায়নের জন্য সঠিক উপাদান ও অংশীজন চিহ্নিত করে তাদের যথাযথভাবে একত্রিত করা বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞ, গবেষক, উদ্যোক্তা, সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।










