আসন্ন ঈদুল আজহায় সিরাজগঞ্জে ৩ হাজার কোটি টাকার পশু কেনাবেচার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। এ সময় পশু পালনে বাড়তি মনোযোগও দিচ্ছেন খামারিরা।

এ বছর জেলার নয় উপজেলায় প্রায় ১৭ হাজার ছোট-বড় খামারি তাদের খামারে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৬টি গবাদিপশু মোটাতাজা করছেন। এর মধ্যে ষাঁড় ১ লাখ ৭১ হাজার ৭১২টি, ছাগল ১ লাখ ৫৫ হাজার, মহিষ ১ হাজার ৪০৫ ও ভেড়া রয়েছে ৬১ হাজার ১৩৩টি।

সিরাজগঞ্জ জেলায় কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার। এ চাহিদা মিটিয়ে বাকি ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৯৬টি পশু সারা দেশে সরবরাহ করা হবে। 

তবে লালনপালন করা পশুর মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদের আরাভ অ্যাগ্রো ফার্মে একটি ষাঁড় সবার নজর কেড়েছে। ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ডলার। ৩৫ মণ (১,৪০০ কেজি) ওজনের বিদেশী প্রজাতির ষাঁড়টির দাম হাঁকা হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা।’

আরাভ অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক জাহিদ হাসান জেমি জানান, নাটোর থেকে নয় মাস আগে আমেরিকান ব্রাঙ্কাস জাতের ষাঁড় কিনে এনে লালনপালন করা হয়। আরাভ অ্যাগ্রো ফার্মের ম্যানেজার আলমগীর হোসেন জানান, ষাঁড়টিকে দেখতে প্রতিদিন খামারে ভিড় করছে উৎসুক জনতা। ক্রেতাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে আসছেন ডলারকে দেখতে। এটিই জেলার সবচেয়ে বড় ও দর্শনীয় ষাঁড়। 

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গৌরাঙ্গ কুমার তালুকদার জানান, আগামীতে যেন এ জাতের ষাঁড় পালনে খামারিরা আগ্রহী হন এজন্য ডলারকে বিভিন্ন রোগের টিকা দেয়ার পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ও প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে তদারক করা হচ্ছে। এছাড়া জেলায় পশু মোটাতাজাকরণে খামারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত খাবার যেন ব্যবহার না করে এজন্য প্রচারণা চালানো এবং পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রাণিসম্পদ খ্যাত সিরাজগঞ্জ জেলায় এ বছর প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার পশু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।