বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, এম সাইফুর রহমান ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী হলেন। তখন সময়টা ছিল স্বৈরাচার চলে যাওয়ার পরের সময়। স্বৈরাচার যখন যায় তখন ট্রেজারি খালি করে নিয়ে যায়, রিজার্ভ খালি করে নিয়ে যায়। যেটি বর্তমান সময়েও আমরা দেখতে পাচ্ছি। ওই রকম একটা পরিস্থিতিতে দেশ গঠন, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও অর্থনৈতিক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।
শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে বণিক বার্তা ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) যৌথ আয়োজনে ‘গুণীজন সংবর্ধনা ২০২৪’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, উনার সঙ্গে আমার পরিচয় তিনি অর্থমন্ত্রী হওয়ার পর। তখন এক্সটেন্ডেড স্ট্রাকচারাল অ্যাডজাস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটি (ইসাফ) নিয়ে আলাপ হচ্ছে আইএমএফের সঙ্গে। তারা বাজেট সহায়তা দেবে। কারণ আমাদের রিজার্ভ সংকট দেখা দিয়েছে। তখন আইএমএফ থেকে বলা হলো যে কর ও রাজস্বের অনুপাত শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে বাড়াতে হবে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ কাস্টমস ডিউটি ৭৫ শতাংশ হবে। তখন আমি ৩ দিন ধরে কাজ করে বের করলাম এ দুইটা সাংঘর্ষিক। যদি রাজস্ব আইএমএফের শর্ত মতো বাড়াতে হয় তাহলে বিশ্বব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী কাস্টমস ডিউটি ৭৫ শতাংশ করা যাবে না। পরবর্তীতে অর্থমন্ত্রী আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি গেলাম দেখা করতে। আমরা কেউ কিছু বলার আগেই তিনি আমাকে বললেন, এ আইএমএফ আর বিশ্বব্যাংকের এসব শর্ত মানা সম্ভব না। তিনি তখন বলে দিলেন কাস্টমস ডিউটি ১০০ শতাংশ হলে ৭৫ শতাংশ করা যাবে না। তখন আমি অবাক হলাম আমি যে কাজ তিনদিনে করলাম তিনি সে কাজের রেজাল্ট হঠাৎ করেই বলে দিলেন।
তিনি বলেন, সাইফুর রহমান যখন ভ্যাট আইন পাস করেন তখন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত ছিল না। এ আইনের বিরোধীতা করেছিল অনেক মন্ত্রীও। এটি যদি পাস না হয় তাহলে কী করতে তবে, সে বিকল্পও উনি ঠিক করে রেখেছিলেন। সবাই যখন বিরোধীতা করছিল তখন তিনি একমাত্র দাঁড়িয়েছেন, দেশের জন্য দাঁড়িয়েছেন। দেশের গ্রামগুলোতেও সোলার সিস্টেমে পৌঁছে দেন তিনি।










