রাজধানীর ইসিবি চত্বরে গভীর রাতে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিউগিনি প্রপার্টিজের জমির দখল-বেদখলকে কেন্দ্র করে বিবাদ থাকতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার কারণ ও জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মাহিদুল ইসলাম।

নিউগিনি প্রপার্টিজে ভাংচুরের ঘটনাস্থলে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আজ এসব কথা বলেন তিনি।

মো. মাহিদুল ইসলাম জানান, গত রাতের ঘটনায় একদল লোক দলবদ্ধ হয়ে এসে সেখানে ভাংচুর করে। খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পরিদর্শক (তদন্ত), পরিদর্শক (অপারেশন) ও অন্য পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রাতেই অভিযান চালিয়ে আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান। এছাড়া পুলিশের আরো কয়েকটি দল এখনো কাজ করছে। ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাজধানী লুটপাট ও দখলের শহরে পরিণত হয়েছে কিনা এবং নিউগিনি প্রপার্টিজ, রাড্ডা হাসপাতাল ও মোহাম্মদপুরে একের পর এক এমন ঘটনা ঘটছে কিনা, জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, নিউগিনি প্রপার্টিজের ঘটনাটি নিয়ে তিনি পুরো দল নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছেন। জবাবে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, প্রতিটি ঘটনা ঘটার পরপরই তারা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছেন এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্তে কাজ করছেন।

e9556f9d-33e4-41e1-8c80-a568a1d478fd

ইসিবি চত্বর এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার পর ভাংচুর করা জিনিসপত্র

হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। দলবদ্ধ হয়ে হামলা করায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার তিনজনের একজন মামুন। তার বাড়ি গফরগাঁও এবং সে ভাসানটেক বস্তিতে থাকে। আরেকজন আসলাম। তার বাড়ি টাঙ্গাইল এবং তিনি অটোরিকশা চালান। অপরজন মুন্না। তিনিও ভাসানটেক বস্তিতে থাকেন।

হামলার মূল কারণ ও বিরোধটি কার সঙ্গে ছিল তা নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এটি একটি আবাসন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গভীর রাতে দলবদ্ধভাবে এত মানুষের আক্রমণের পেছনে জমি কেন্দ্রিক বিবাদ থাকার সম্ভাবনা বেশি। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের কাছে কোনো চাঁদা দাবি করা হয়েছিল কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে পুলিশের কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই। এটি মূলত জমিকেন্দ্রিক দুই পক্ষের বিবাদের কারণে ঘটতে পারে বলে পুলিশ মনে করছে। পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।