জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশে পরিবেশবিজ্ঞান এখন আর কেবল একটি একাডেমিক বিষয় নয়; এটি দেশের টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম হাতিয়ার। দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ কিংবা শিল্প-কারখানার পরিবেশ ব্যবস্থাপনা—সবখানেই এখন দক্ষ জনবলের চাহিদা। সেই চাহিদা মেটাতেই দেশের সরকারি ও বেসরকারি বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে পরিবেশবিজ্ঞান পড়ানোর যাত্রা শুরু হয়েছিল নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বপ্রথম ১৯৯৪ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে বিভাগ চালু করে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম এগিয়ে আসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়; ১৯৯৬ সালে সেখানে পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। এর তিন বছর পর ১৯৯৯ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এ বিষয়ে পাঠদান শুরু করে। প্রায় একই সময়ে ২০০০-০১ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশবিজ্ঞান পড়ানো শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন অনেক সরকারি, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ই এ বিষয়ে ডিগ্রি দিচ্ছে।
পরিবেশবিজ্ঞানে বিএসসি (অনার্স) ডিগ্রি নিতে চাইলে সাধারণত বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস করতে হয়। এরপর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ভর্তির শর্ত ভিন্ন হতে পারে। স্নাতক শেষে স্নাতকোত্তর কিংবা গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি ডিগ্রির জন্যও একাধিক প্রতিষ্ঠানে সুযোগ রয়েছে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পরিবেশবিজ্ঞানের পথিকৃৎ হিসেবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উঠে আসে। তবে বর্তমানে আরো অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে পড়ানো হয়। আরো অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশবিজ্ঞানে ডিগ্রি নেয়ার সুযোগ আছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
বেসরকারি খাতে প্রথম সারির প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই পরিবেশবিজ্ঞান পড়ানো হয়। এক্ষেত্রে পথিকৃৎ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে পরিবেশবিজ্ঞান ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর—দুই পর্যায়েরই প্রোগ্রাম চালু আছে। বাংলাদেশের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশবিজ্ঞান, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে পরিবেশবিজ্ঞান ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে পরিবেশবিজ্ঞান ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক প্রোগ্রাম রয়েছে। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে পরিবেশবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে পরিবেশবিজ্ঞান ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে স্নাতক প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। এছাড়া বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজিতে পরিবেশবিজ্ঞানে স্নাতক এবং জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে পরিবেশ বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে স্নাতক প্রোগ্রাম রয়েছে।










