চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) নিট মুনাফা প্রত্যাশার থেকে কম ছিল সুইস ব্যাংক ইউবিএসের। বেশ কয়েকটি বিভাগেই গত বছরের তুলনায় আয় নিম্নমুখী ছিল ব্যাংকটির। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্থিতিশীল বাজারে ব্যাংকটির বিনিয়োগ ব্যাংকিং ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবসায় অনিশ্চয়তা এখনো বিদ্যমান।

দ্বিতীয় প্রান্তিকে মুনাফা বাড়লেও ইউবিএসের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ চিত্রটি নিয়ে এখনো আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্বল অর্থনীতি, সুদহার বৃদ্ধি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ইউবিএসের মুনাফা ৫ শতাংশ বেড়ে ২১০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ২০০ কোটি ডলার। অন্যদিকে এক সমীক্ষায় ১৯ জন বিশ্লেষকের পূর্বাভাস ছিল মুনাফা ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২৪০ কোটি ডলারে উন্নীত হবে। প্রকৃত মুনাফা পূর্বাভাসের তুলনায় কম ছিল।

এ বিষয়ে ইউবিএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা র্যালফ হ্যামারস এক বিবৃতিতে জানান, গত ১০ বছরের ইতিহাসে বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সময় ছিল এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক। তবে বছরের দ্বিতীয়ার্ধের পরিস্থিতি এখন অনিশ্চিত।

এদিকে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয় কমেছে ইউবিএসের প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন ব্যাংকগুলোরও। জেপি মরগান চেইজ অ্যান্ড কোম্পানি ও মরগান স্ট্যানলি জানিয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিনিয়োগ ব্যাংকিং আয় অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।

এপ্রিল-জুন সময়ে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিনিয়োগ ব্যাংকিং ব্যবসার আয় ১৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২১০ কোটি ডলারে। অথচ বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল আয় ২৩০ কোটি ডলার হবে। গত বছর আয় ছিল ২৫০ কোটি ডলার। এছাড়া পরামর্শক আয় ৩০ শতাংশ ও পুঁজিবাজারের আয় ৭১ শতাংশ কমেছে। ইউবিএসের প্রধান ব্যবসা সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ বিভাগে আয় ছিল ৪৭০ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৪৮০ কোটি ডলার। অথচ বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস বলছিল, আয় এবারো ৪৮০ কোটি ডলার হবে। ইউবিএস জানায়, মূলত লেনদেন ফি কমার কারণেই এবার আয় নিম্নমুখী ছিল।

এদিকে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামষ্টিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কারণে সম্পদ ব্যবস্থাপনা ক্লায়েন্টরা সতর্ক থাকবেন বলে জানিয়েছে ইউবিএস ব্যাংক। এ বছরের জুলাইয়ে সুইস ব্যাংকটির বৈশ্বিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন ইকবাল খান।