তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো ফিউচার মার্কেটে জাপানি রাবারের দাম কমেছে। চীনে মন্থর বৃদ্ধির হার, যুক্তরাষ্ট্রের করহার বৃদ্ধির আশঙ্কা ও ইয়েনের অবমূল্যায়নের শঙ্কা দামে প্রভাব ফেলেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

দ্য ওসাকা এক্সচেঞ্জে রাবারের দাম প্রতি কেজিতে ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। পূর্ব মূল্য থেকে ৩ ইয়েন কমে বর্তমান দাম দাঁড়িয়েছে ২১৮ দশমিক ৬ ইয়েন বা ১ ডলার ৬১ সেন্ট। একে বৈশ্বিক অর্থনীতির চলমান মন্দাবস্থা ও মহামারী-পরবর্তী প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকরা।

এক সপ্তাহে ওএসইতে দাম ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে (এসএইচএফই) মে মাসের চুক্তিতে রাবারের দাম প্রতি টনে ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ পতন ঘটেছে। ২২৫ ইউয়ান কমে প্রতি টনের বর্তমান দাম দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ২৫ ইউয়ান বা ১ হাজার ৭২৬ ডলার ৬৬ সেন্টে। তবে চীনের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারিতে মন্থর ছিল। কভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হলেও চীনের ভোক্তারা এখনো সতর্ক। দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে নারাজ। যার ফল পড়েছে দেশটির অর্থনীতিতে।

ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান জেরোম পাওয়েল উচ্চ ও দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘‌যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথম দিকে মূল্যস্ফীতিকে সাময়িক ভেবেছিল, যা ঠিক ছিল না। এজন্যই শ্রমবাজারের অবস্থা থেকে পরবর্তী সময়ে অবাক হয়েছে।’ তবে গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে যতটা ধারণা করা হয়েছিল, জাপানির অর্থনীতি তার চেয়েও ধীরগতিতে বাড়ছে। সম্প্রতি জাপান সরকার যে তথ্য প্রকাশ করে, তা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয়।

ডলারের বিপরীতে ক্রমে শক্তিশালী হচ্ছে ইয়েন। ডলারপ্রতি শূন্য দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ দশমিক ৯৫ ইয়েন। যার প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বাজারে। জাপান ও চীনের বাইরে সিঙ্গাপুরেও পতন ঘটেছে রাবারের দাম। এপ্রিলে সরবরাহের জন্য সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জে (এসআইসিওএম) প্রতি কেজি রাবারের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এর আগে ২০২১ সালে জাপানে প্রাকৃতিক রাবারের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। টানা চারদিনের মতো পণ্যটির ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য বেড়েছিল।  বিশ্লেষকরা জানিয়েছিলেন, চিপ সংকটের কারণে গাড়ি নির্মাণে যে মন্দা ভাব দেখা দিয়েছিল, তা কাটতে শুরু করেছে। এ কারণে চাকার টায়ার তৈরির প্রধান কাঁচামাল প্রাকৃতিক রাবারের চাহিদা বেড়েছে। অন্যদিকে জাপানের মুদ্রার বিনিময়মূল্য কমে যাওয়ায় প্রাকৃতিক রাবার কেনায় আগ্রহ বেড়েছে ক্রেতাদের মাঝে। ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার কারণে পণ্যটির দামও বেড়েছিল।

সে সময় জাপানের ওসাকা এক্সচেঞ্জে মে মাসের চুক্তিতে প্রাকৃতিক রাবারের মূল্য ৭ দশমিক ৭ ইয়েন বা ৪ শতাংশ বেড়েছিল। প্রতি কেজির দাম স্থির হয়েছিল ২ ডলার ২ সেন্ট বা ২৫৬ দশমিক ৭ ইয়েনে। ওই অধিবেশনের শুরুতে পণ্যটির দাম ২৫৭ দশমিক ৫ ইয়েনে উন্নীত হয়, যা ২৮ মের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে মে মাসে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন রাবারের দাম ২০০ ইউয়ান বেড়েছিল।