বিশ্বকে জুড়তে সড়ক, রেল ও বন্দর উন্নয়নে কাজ করছে চীন। বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় লাখ লাখ ডলার ব্যয় করছে দেশটি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির উচ্চাভিলাষী এ উদ্যোগ গতি হারিয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে এ প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সংকুচিত হয়েছে। এ সময়ে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং রাশিয়া, মিসর ও শ্রীলংকায় বিআরআইয়ের ব্যয় শূন্যের কোটায় নেমেছে। নতুন একটি সমীক্ষার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
সম্প্রতি প্রকাশিত সাংহাইভিত্তিক গ্রিন ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (জিএফডিসি) সমীক্ষা অনুসারে, জানুয়ারি-জুন সময়ে চীনা বিনিয়োগ প্রাপ্তিতে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে সৌদি আরব। বিআরআই প্রকল্পের আওতায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে প্রায় ৫৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। এদিকে বিশ্লেষকদের ধারণা, বিদেশী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় শ্রীলংকায় বিআরআই বিনিয়োগ শূন্যে নেমেছে। পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এ সময়ে রুশ কোনো প্রকল্পেও অর্থায়ন করা হয়নি।
জিএফডিসি জানিয়েছে, এ সময়ে বিআরআইয়ের মোট অর্থায়ন ও বিনিয়োগ ২ হাজার ৮৪০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ নিয়ে ২০১৩ সাল থেকে এ উদ্যোগে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারে। ২০২৭ সাল বিশ্বব্যাপী বিআরআইয়ের অধীনে ব্যয়ের পরিমাণ ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছনোর প্রাক্কলন দেয়া হয়েছে। আবার অন্যান্য পূর্বাভাস অনুসারে, এ সময়ে ২ হাজার ৬০০টিরও বেশি প্রকল্পে মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলারে।
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৩ সালে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের সূচনা করেছিলেন। এ উদ্যোগের লক্ষ্য এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাজুড়ে যৌথ স্বার্থের একটি বিস্তৃত সম্প্রদায় গড়ে তুলতে অবকাঠামো নির্মাণে চীনের শক্তিকে কাজে লাগানো। যদিও বিশ্লেষকরা বিআরআইকে বিশ্বব্যাপী চীনের বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে উচ্চাভিলাষী প্রয়াস হিসেবে দেখেন। সম্প্রতি উদ্যোগটি দেশগুলোর ওপর ঋণের বোঝা এবং পরিবেশগত অবনতির মতো প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছে। কিছু দেশ ঋণের ঝুঁকি তুলে ধরে বিনিয়োগ প্রকল্প নিয়ে চীনের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করছে।
বিদেশে কয়লা প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করার জন্য গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রতিশ্রুতি দেয় চীন। এরপরে নতুন কোনো কয়লা প্রকল্প বিআরআইয়ের সমর্থন পায়নি। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে একটি চীনা ডেভেলপার ইন্দোনেশিয়ায় একটি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি জিতেছে। ১১ দশমিক ২ গিগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এরই মধ্যে অর্থায়ন নিশ্চিত করেছে। যদিও প্রকল্পটির এখনো নির্মাণকাজ শুরু করা হয়নি।
জিএফডিসি অনুসারে, বিআরআইয়ের আওতায় থাকা দেশগুলোয় অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্পগুলোয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে বেইজিং। দেশটির বৈদেশিক জ্বালানি বিনিয়োগের প্রায় ৮০ শতাংশই জ্বালানি তেল ও গ্যাস প্রকল্প। পাশাপাশি মোট চীনা বিনিয়োগের ৬৬ শতাংশ নির্মাণ চুক্তি।
২০২২ সালের প্রথমার্ধে গ্যাস প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন ৬৭০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। যেখানে গত বছরের পুরো সময়ে এ বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৯৫০ কোটি ডলার। পাশাপাশি সবুজ জ্বালানি ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন এক বছর আগের তুলনায় ২২ শতাংশ কমেছে। সবুজ জ্বালানি সম্পর্কিত প্রকল্পে নির্মাণ ব্যয় ১৬০ কোটি ডলারে নেমেছে। এ অর্থায়নের পরিমাণ এক বছর আগের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।









