রাশিয়ায় ভোক্তা ও বাণিজ্যিক ব্যাংকিং ব্যবসা বন্ধ করছে সিটিগ্রুপ। চলমান তৃতীয় প্রান্তিকেই (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গুটিয়ে নেয়ার কার্যক্রম শুরু করবে ওয়াল স্ট্রিট জায়ান্ট সিটিগ্রুপ ইনকরপোরেটেড। এতে আগামী ১৮ মাসে ব্যাংকটির ১৭ কোটি ডলার ব্যয় হবে। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে এ পদক্ষেপ নিচ্ছে সিটি। উভয় ব্যবসা বিক্রির জন্য কোনো ক্রেতা খুঁজে না পাওয়ায় বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংকটি।

রয়টার্সের খবর অনুসারে, এর আগে ২০২১ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বেশ কয়েকটি বাজার থেকে ভোক্তা ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রির ঘোষণা দেয় সিটিগ্রুপ। ইউক্রেনে আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি রাশিয়ার বাণিজ্যিক ব্যাংকিং কার্যক্রমও এ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করে।

মার্কিন ব্যাংকগুলোর মধ্যে রাশিয়ায় সবচেয়ে বেশি বিস্তৃত ব্যাংকিং কার্যক্রম রয়েছে সিটির। দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির তিন হাজার কর্মী রয়েছেন। এ বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে দেশটিতে ১৫টি শাখার প্রায় ২ হাজার ৩০০ কর্মী চাকরি হারাবেন। এর মাধ্যমে ব্যাংকটি রাশিয়া থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগ দিল। এর আগে ম্যাকডোনাল্ড’স, স্টারবাকস, অ্যামাজন, অ্যাপল ও ব্যাংক অব আমেরিকার মতো কয়েক ডজন প্রতিষ্ঠান রুশ কার্যক্রম বিক্রি কিংবা স্থগিত করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, ভোক্তা ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও ব্যাংকটি দেশটিতে বহুজাতিক প্রাতিষ্ঠানিক ক্লায়েন্টদের পরিষেবা দেয়া চালিয়ে যাবে। বিশেষ করে রাশিয়ায় কার্যক্রম বন্ধের জটিল কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সমর্থন দেয়া অব্যাহত রাখবে সিটি।

নিউইয়র্কের আয়রনহোল্ড ক্যাপিটালের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ সিংহাই বলেন, এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে। কারণ রাশিয়ায় ঋণ দেয়া উচ্চঝুঁকিপূর্ণ। পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি মারাত্মক অর্থনৈতিক মন্দায় পড়তে পারে।

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে (এপ্রিল-জুন) রুশ কার্যক্রমে ৮৪০ কোটি ডলারের লোকসানের কথা জানিয়েছে সিটিব্যাংক। এটি ২০২১ সালের শেষে ৯৮০ কোটি ডলার থেকে কম। এ লোকসানের ১০০ কোটি ডলার দেশটির ভোক্তা ও স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকিং ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত।

মার্কিন আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান মর্নিংস্টারের ইক্যুইটি স্ট্র্যাটেজিস্ট এরিক কম্পটন বলেন, সিটির এ লোকসানের হিসাবে সব রুশ কার্যক্রমের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেমন অফিস বন্ধ করা এবং কর্মীদের বেতন দেয়া চালিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো লোকসানের পাল্লা ভারী করছে।

সিটিগ্রুপের লিগ্যাসি ফ্র্যাঞ্চাইজি বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা টিটি কোল বলেন, আমরা কয়েক মাস ধরে এ ব্যবসাগুলো বিক্রির জন্য একাধিক বিকল্প অনুসন্ধান করেছি। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হওয়ার কারণে আমরা সফল হতে পারিনি। দেশটির ভোক্তা ও বাণিজ্যিক ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধের কারণে আমানত হিসাব, বিনিয়োগ, ঋণ ও কার্ডের কার্যক্রম প্রভাবিত হবে বলেও জানান তিনি।

মুনাফা ও শেয়ারদরে সমকক্ষদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে প্রধান নির্বাহী জেন ফ্রেজারের কৌশলের অংশ হিসেবে বিভিন্ন বাজার থেকে ভোক্তা ব্যাংকিং ব্যবসা থেকে বেরিয়ে আসছে সিটিগ্রুপ। গত বছর দায়িত্ব নেয়ার পর জেন ফ্রেজার এশিয়া, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও মেক্সিকোসহ ১৪টি বাজারে ভোক্তা ব্যাংকিং গুটিয়ে সিটিগ্রুপের ব্যবসাকে সরল করার প্রতিশ্রুতি দেন। এর মাধ্যমে আরো লাভজনক প্রাতিষ্ঠানিক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবসায় মনোযোগ বাড়াতে চাইছে সিটি। ২০০৭-০৯ সালের আর্থিক সংকটের পর সম্পদ পুনর্গঠন করতে বাধ্য হয়েছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এরপর জেন ফ্রেজারের অধীনে বড় পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সিটিগ্রুপ। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাহরাইন ও ভারতে ভোক্তা ব্যাংকিং ব্যবসা বিক্রির চুক্তি করেছে সংস্থাটি।