দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের অবদান বর্তমানের প্রায় ৩৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সম্ভাবনাময় খাতভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণ, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) আয়োজিত বিসিক বর্ষামেলা ও শিল্পনগরী কর্মকর্তা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান। সম্মেলনে বিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন শিল্পনগরীতে কর্মরত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত সম্মিলিতভাবে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় ৩৪ শতাংশ অবদান রাখছে। বিসিকের ৮৪টি শিল্প পার্ক থেকে বছরে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা জাতীয় অর্থনীতিতে যুক্ত হচ্ছে এবং প্রায় ৩০০ কোটি টাকার পণ্য বিদেশে রফতানি হচ্ছে।
তবে এ অর্জনকে সন্তোষজনক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমমানের অর্থনীতির দেশ—যেমন ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায়—সিএমএসএমই খাতের অবদান ৫০ শতাংশেরও বেশি। কোথাও তা ৫৮ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। বাংলাদেশকেও সেই অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে। মন্ত্রী বলেন, সিএমএসএমই খাত যত বিস্তৃত হবে, ততই আয়বৈষম্য কমবে এবং দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল ধারায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অংশীদারত্ব অন্তত ৬০ শতাংশে উন্নীত করাই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য শিল্প খাতের সম্প্রসারণে পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হবে।
লক্ষ্য অর্জনে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আগামী সাত দিনের মধ্যে নিজ নিজ এলাকার শিল্পের সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেন। এসব প্রস্তাবের ভিত্তিতে জেলা ও শিল্প পার্কভিত্তিক সম্ভাবনা মূল্যায়ন করে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।
বিশেষ করে কৃষিপ্রক্রিয়াজাতকরণ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সুপারিশ দ্রুত পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।









