চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) আগের প্রান্তিকের তুলনায় সংকুচিত হয়েছে চীনা অর্থনীতি। সাংহাইসহ অন্য শহরগুলোয় কভিডজনিত লকডাউন এ সংকোচনে ভূমিকা রেখেছে। যদিও এক বছর আগের তুলনায় অর্থনীতি এখনো মন্থর প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে। সরকার বলছে, লকডাউন শেষে ব্যবসাগুলো পুনরায় খুলে যাওয়ায় অর্থনীতি স্থিতিশীল পুনরুদ্ধারের পথে চলছে। তবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এ তথ্য বিশ্বজুড়ে মন্দার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। কারণ নীতিনির্ধারকরা মূল্যস্ফীতি কমাতে সুদের হার বাড়িয়ে চলেছেন। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধ ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করা ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আরো বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে। খবর এপি ও রয়টার্স।
গতকাল প্রকাশিত সরকারি তথ্যানুসারে, ৩০ জুন শেষ হওয়া প্রান্তিকে চীনা অর্থনীতি আগের প্রান্তিকের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। যদিও গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে সাম্প্রতিক ওঠানামা আড়াল হতে পারে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতি এক বছর আগের তুলনায় মাত্র দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রথম প্রান্তিকেও প্রবৃদ্ধির হার ছিল ধীর ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। এটি অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়েও পিছিয়ে। রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা এপ্রিল-জুনে ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনের অর্থনীতি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এটি তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল প্রবৃদ্ধি।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেনসের রাজিব বিশ্বাস একটি প্রতিবেদনে বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির কার্যক্রম প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দুর্বল রয়ে গিয়েছে। এ খবরের পর এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলোয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। হংকংয়ে সূচক নিম্নমুখী হলেও সাংহাই, টোকিও ও সিউলে বেড়েছে।
টোকিওর দাই-ইচি লাইফ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ তোরু নিশিহামা বলেন, চীনের অর্থনীতি স্থবিরতার মধ্যে পড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে। যদিও মে-জুনের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা শেষ হয়েছে। এজন্য আপনি মন্দার আশঙ্কা কিংবা পরপর দুই প্রান্তিকে সংকোচনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারেন। নিয়ন্ত্রিত এ প্রবৃদ্ধির মধ্যে চীনা সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এখন থেকে প্রণোদনা কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারে। তবে সুদের হার আরো কমানোর ক্ষেত্রে প্রধান বাধা মূল্যস্ফীতি। যদিও বর্তমানে দেশটির মূল্যস্ফীতি এখনো তুলনামূলক কম।
জিরো কভিড নীতির আওতায় মার্চের শেষ দিকে বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দর এলাকা সাংহাইসহ অন্য শিল্প কেন্দ্রগুলোয় লকডাউন আরোপ করা হয়। লাখ লাখ পরিবারকে তাদের বাড়িতে সীমাবদ্ধ করে দেয়া হয়। বড় পতন দেখা দেয় ভোক্তা ব্যয়ে। ফলে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যাহতের মুখে পড়ে। এরপরে মে মাসে কারখানা ও অফিসগুলো পুনরায় চালু করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। তবে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, দেশটির অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগবে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো বলছে, চীনের ব্যবসায়িক অংশীদাররা আগামী কয়েক মাসে শিপিং ব্যাঘাতের প্রভাব অনুভব করবে। দেশটির পরিসংখ্যান ব্যুরো এক বিবৃতিতে বলেছে, কভিডের বিপর্যয় কাটিয়ে প্রতিটি খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে অর্থনীতি স্থিতিশীল পুনরুদ্ধারের পথে।
তবে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে এমন পরিস্থিতি জ্বালানি তেল, খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের চাহিদা কমিয়ে দিয়ে চীনের ব্যবসায়িক অংশীদারদের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। বারবার লকডাউন ও ব্যবসায়িক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা উদ্যোক্তাদের বিপর্যস্ত অবস্থার মুখোমুখি করেছে। অথচ তারাই দেশটিতে নতুন সম্পদ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে দেশটির ছোট বিক্রেতা ও রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অন্যরাও বলছেন, তারা টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এ অবস্থায় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর মওকুফ, ভাড়া কমানো ও অন্য সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তবে বেশির ভাগ অর্থনীতিবিদ চলতি বছর সরকারের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।









