বিশ্বের প্রায় দেশের মতো জার্মানিতেও বেড়েছে জ্বালানির দাম। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ আর মহামারীর কারণে সৃষ্টি হয়েছে সরবরাহ চেইনে সংকট। সব মিলিয়ে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি যেন ক্রমেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, জার্মানির উৎপাদন পর্যায়ে পণ্যমূল্য অনেক বেড়েছে। যার চাপ সরাসরি গিয়ে পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের জুলাইয়ে সাধারণ ভোক্তারা উৎপাদকদের ৩২ দশমিক ২ শতাংশ অর্থ বেশি পরিশোধ করেছেন। খবর সিএনবিসি।

দেশটির ফেডারেল স্ট্যাটিসটিকস এজেন্সি প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ এ মূল্যবৃদ্ধির মূল চালক। জুলাইয়ে যে পরিমাণ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে তার অর্ধেকের কারণ হলো জ্বালানির দাম। আগের বছরের সঙ্গে তুলনা করতে গেলে জ্বালানির দাম বেড়েছে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ।

ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষ করেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকট নিয়ে। সরবরাহ চেইনে সংকট তো ছিলই, যুদ্ধ বাড়িয়েছে জ্বালানির দাম। জার্মানির শিল্প খাতের জন্য গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি খুব গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এক বছরের তুলনায় তা বেড়েছে প্রায় তিন গুণ।

দেশের অর্থ মন্ত্রণালয় আগস্টে সবশেষ যে মাসিক প্রতিবেদন দিয়েছে সেখানে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ অর্থনীতি উন্নয়নের যে পূর্বাভাস দেখা যাচ্ছে, তাতে উন্নয়নের বিষয়টা অনেকটাই ঘোলাটে। এক্ষেত্রে চূড়ান্ত পর্যায়ের অনিশ্চয়তা রয়েছে। রাশিয়া থেকে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গিয়েছে। জ্বালানির দাম অব্যাহতভাবে বাড়ছে। এর রেশ পড়েছে অন্যান্য পণ্যের ওপর। সরবরাহ চেইনে সংকট তো ছিলই। এর সঙ্গে চীনের শূন্য কভিড নীতিমালাও সম্পর্কযুক্ত। সব মিলিয়ে জার্মানির অর্থনীতির ওপর বেশ ভারী প্রভাব পড়েছে।

পরিসংখ্যান কর্তৃপক্ষ বলছে, মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো উৎপাদক পর্যায়ের মূল্য। সেখানে জুলাইয়ে জার্মানিতে স্মরণকালের সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। ১৯৪৯ সালের পর এটিই সবচেয়ে বড় দামের উল্লম্ফন। আর এর পেছনেও প্রধান দায় জ্বালানির দামের। ২০২১ সালের জুলাইয়ের তুলনায় সার্বিকভাবে জ্বালানির দাম বেড়েছে ১০৫ শতাংশ। মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের দামই বেড়েছে। আর এ দুটির দাম বাড়িয়েছে অন্য সবকিছু।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকার গ্যাসের গ্রাহকদের জন্য আগামী ১ অক্টোবর থেকে নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে একটি সাধারণ জার্মান পরিবারের বার্ষিক জ্বালানির ব্যয় অনেকটুকু বাড়িয়ে দেবে। এ বৃদ্ধিকে কিছুটা সহনীয় করতে গ্যাসের বিক্রয় কর ১৯ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করা হচ্ছে।  জ্বালানির উচ্চমূল্য দেশটিকে মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে। জুলাইয়ে জার্মানির মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ।