উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অতিপ্রয়োজনীয় নয়, এমন পণ্য ও সেবায় ব্যয় এড়িয়ে চলছেন ভোক্তারা। ফলে ধীর হয়েছে খুচরা বিক্রির গতি। এ অবস্থায় বার্ষিক মুনাফার পূর্বাভাস কমিয়েছে ম্যাসি’স ও নর্ডস্ট্রম।

এপির খবর অনুসারে, মার্কিন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো অবিক্রীত মজুদ কমাতে হিমশিম খাচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তা অতিপ্রয়োজনীয় নয়, এমন পণ্যে ব্যয় কমিয়ে দেয়ায় এ পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। ফলে মূল্যছাড় দিয়ে মজুদ কমাতে চাইছে প্রতিষ্ঠানগুলো। পাশাপাশি পণ্যের ক্রয়াদেশও কমিয়ে দেয়া হচ্ছে। এসব প্রতিবন্ধকতার কারণে দ্বিতীয় প্রান্তিকে শক্তিশালী মুনাফার পরও বার্ষিক পূর্বাভাস কমিয়ে এনেছে ম্যাসি’স ও নর্ডস্ট্রম।

এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কোহল’স আয় ও মুনাফার পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে। মূল্যছাড় দেয়ায় মুনাফা কমে গিয়েছে বলে জানিয়েছিল ডিপার্টমেন্টাল স্টোর চেইনটি। ওয়ালমার্ট ও টার্গেটও অতিপ্রয়োজনীয় নয়, এমন পণ্যে ভোক্তা ব্যয় কমিয়ে দেয়ায় আয় এবং মুনাফা কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।

ক্রমবর্ধমান দাম পরিবারগুলোকে আরো সতর্ক হতে বাধ্য করেছে। তারা নতুন পোশাক, ইলেকট্রনিকস, আসবাবপত্রের মতো পণ্যগুলোয় ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। যেকোনো পূর্বাভাসের তুলনায় ভোক্তা ব্যয়ের এ প্রবণতা দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে।

৩০ জুলাই শেষ হওয়া তিন মাসে ম্যাসি’স ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার মুনাফা পেয়েছে। শেয়ারপ্রতি এ মুনাফার পরিমাণ ৯৯ সেন্ট। এককালীন চার্জ বাদে এ মুনাফা শেয়ারপ্রতি ১ ডলার। তাছাড়া এ মুনাফা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ৮৬ সেন্টকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। এ সময়ে সংস্থাটির আয় ১ শতাংশ কমে ৫৬০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটিও প্রত্যাশার তুলনায় শক্তিশালী ছিল।

ম্যাসি’স এখন আশা করছে, চলতি বছর বিক্রির পরিমাণ ২ হাজার ৪৩৪ কোটি থেকে ২ হাজার ৪৫৪ কোটির মধ্যে থাকবে। যদিও গত মে মাসে সংস্থাটি ২ হাজার ৪৪৬ থেকে ২ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি ৪ থেকে ৪ ডলার ২০ সেন্ট মুনাফার আশা করছে ম্যাসি’স। যেখানে ৪ ডলার ৫৩ সেন্ট থেকে ৪ ডলার ৯৫ সেন্ট মুনাফার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।

এদিকে এপ্রিল-জুন সময়ে নর্ডস্ট্রিম ১২ কোটি ৬০ লাখ কিংবা শেয়ারপ্রতি ৭৭ সেন্ট মুনাফা পাওয়ার কথা জানিয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটি চলতি বছর ৫-৭ শতাংশ আয় বাড়ার আশা করছে। যেখানে এর আগে ৬-৮ শতাংশ আয় বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সংস্থাটি শেয়ারপ্রতি সামঞ্জস্য মুনাফার পূর্বাভাস ২ ডলার ৩০ সেন্ট থেকে ২ ডলার ৬০ সেন্টে নামিয়েছে। যেখানে আগে ৩ ডলার ২০ সেন্ট থেকে ৩ ডলার ৫০ সেন্টের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।

ম্যাসি’সের প্রধান নির্বাহী জেফ জেনেট এপিকে বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ভোক্তাদের ব্যয় করার সক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। এটি রিটেইল কোম্পানিগুলোয় মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

একটি বিবৃতিতে নর্ডস্ট্রমের প্রধান নির্বাহী এরিক নর্ডস্ট্রম উল্লেখ করেছেন, সিয়াটলভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ফলাফল পূর্ববর্তী দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। জুনের শেষ দিকে গ্রাহক ট্রাফিক ও চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়ে।