নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে অন্যান্য অনেক দেশের মতো অভ্যন্তরীণ খাদ্য শৃঙ্খল রক্ষা ও জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ভিয়েতনাম। এজন্য শুরুর দিকে চাল রফতানি সাময়িক বন্ধ রেখেছিল দেশটি। তবে পরবর্তী সময়ে রফতানি চালু করলেও এপ্রিলে খাদ্যপণ্যটির রফতানি কোটা বেঁধে দিয়েছিল ভিয়েতনাম সরকার। এখন চলতি মাসের জন্য বেধে দেয়া চালের রফতানি কোটা এক লাখ টন বাড়িয়েছে দেশটি। মূলত বাড়তি রফতানি চাহিদার জের ধরে কোটা সংশোধন করেছে ভিয়েতনাম। খবর ভিয়েতনাম নিউজ।
চলতি মাসের শুরুতে ভিয়েতনামের মিনিস্ট্রি অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ট্রেডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, এপ্রিলে ভিয়েতনামের রফতানিকারকরা সব মিলিয়ে চার লাখ টন চাল রফতানি করতে পারবেন। গতকাল নতুন এক বিবৃতিতে এ পরিমাণ সংশোধন করেছে মন্ত্রণালয়। নতুন বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলতি মাসে দেশটি থেকে সব মিলিয়ে পাঁচ লাখ টন চাল রফতানি করা যাবে। সেই হিসাবে চাল রফতানির কোটা বাড়ানো হয়েছে এক লাখ টন। ২৫ এপ্রিল চাল রফতানিকারকদের সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধিদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় মে মাসে ভিয়েতনাম থেকে খাদ্যপণ্যটির রফতানি কোটা নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে সব মিলিয়ে আট লাখ টন চাল রফতানি করতে পারে ভিয়েতনাম। তবে এরই মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের মহামারী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে খাদ্যপণ্যটির রফতানির পরিমাণ বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পুরাটাই নির্ভর করছে মহামারী পরিস্থিতি ও ভিয়েতনামের জনগণের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার ওপর। যদিও দেশটির সরকার আপাতত চাল রফতানি সীমিত রাখতে চাইছে। তবে খাদ্যপণ্যটির রফতানি বাড়াতে সরকারের ওপর রফতানিকারকদের চাপ রয়েছে।
ভিয়েতনাম বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ভিয়েতনাম থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৭০ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ১৯ শতঅংশ বেশি। ২০১৮ সালে ভিয়েতনামিজ রফতানিকারকরা মোট ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টন চাল রফতানি করেছিলেন। ২০১১ সালে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৭৭ লাখ ১৭ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছিল।









