কভিড-১৯ মহামারীর অভিঘাত কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে উড়োজাহাজ পরিবহন খাত। এর জের ধরে ভারতীয় এয়ারলাইনসগুলো বহর বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে লিংক লিগ্যালের এভিয়েশনের সহযোগী অংশীদার নেহা সিং বলেন, ভারতের এভিয়েশন খাতের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। এ খাতে প্রবৃদ্ধির কারণ মূলত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভোক্তারা। তাই বহর বাড়ানো অত্যাবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দ্য ন্যাশনাল নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে টাটা গ্রুপ এয়ার ইন্ডিয়াকে কিনে নেয়। বহর ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটি। এর ধারাবাহিকতায় বহরে ৩০০টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
এদিকে চলতি বছর নতুন উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে জেট এয়ারওয়েজও। এ বছরই আবার ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে সংস্থাটি। এছাড়া আগামী মাসে প্রথম ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে আকাসা এয়ার। গত বছরের নভেম্বরে ৭২টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পন্ন করে উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটি।
কভিডের পূর্বে এভিয়েশন খাতে সবচেয়ে গতিশীল প্রবৃদ্ধি ছিল ভারতের বাজারে। তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জের ধরে বিশ্ববাজারে সব ধরনের জ্বালানির দাম অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এর প্রভাব পড়ে ভারতের এভিয়েশন খাতেও। এ বিষয়ে নেহা সিং জানান, সম্ভবত উড়োজাহাজ সক্ষমতা বাড়ানোর শ্রেষ্ঠ সময় এখন। আমরা সংশ্লিষ্ট খাতের দ্রুত প্রবৃদ্ধি চাইছি। জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি, যুদ্ধ কিংবা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও এর জন্য প্রস্তুতি শুরু করা উচিত।
কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় বৈশ্বিক উড়োজাহাজ ভ্রমণ খাত আবারো উচ্চাকাঙ্ক্ষী। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) তথ্য বলছে, এ বছরের মে মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এশীয় প্যাসিফিক এয়ারলাইনসগুলোর যাত্রী ভিড় ৪৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এপ্রিলে এ বৃদ্ধির হার ছিল ২৯৫ দশমিক ৩ শতাংশ। ওই অঞ্চলে উড়োজাহাজ সক্ষমতা ১১৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। যাত্রী আসন সক্ষমতা ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়ে ৭২ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
এ বিষয়ে আইএটিএর মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ বলেন, মানুষের ভ্রমণ করা প্রয়োজন। সরকার কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল করলে তারা তা করবেও।
বিশ্লেষকদের দাবি, এ বছর ভারতীয় উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো ক্রয়াদেশ করলে তা সামনের বছরগুলোয় ফ্লাইট পরিচালনা ও এয়ারলাইনসগুলোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে। এক বিবৃতিতে ক্যাপা সেন্টার ফর এভিয়েশন জানায়, এ বছর ক্রয়াদেশের যে সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হবে, তা দীর্ঘমেয়াদে ভারতের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর বহরে প্রধান ভূমিকা রাখবে। ভারতসহ সমগ্র বিশ্বের এয়ারলাইনসগুলো উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিচ্ছে। এটাই মহামারীর অভিঘাত কাটিয়ে উঠে এভিয়েশন খাত আবারো পূর্ণোদ্যমে সচল হওয়ার দিকে ইঙ্গিত দেয়। গত কয়েক বছরে বহরসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো বিলম্বিত হয়েছে। বহর উন্নয়নে আরো কয়েকশ উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিতে পারে এয়ার ইন্ডিয়া ও জেট এয়ারওয়েজ।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত হয় ফার্নবরো এয়ার শো। ধারণা করা হয়েছিল, অনুষ্ঠানটি উপলক্ষ করে কয়েকটি প্রধান বিষয়ে চুক্তি করবে ভারতীয় উড়োজাহাজ সংস্থা দুটি। যদিও এ সম্পর্কে কোনো ঘোষণা করা হয়নি। এদিকে একসময়ের রাষ্ট্রায়ত্ত উড়োজাহাজ সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া বছরের পর বছর লোকসান করেছিল। বর্তমানে টাটার মালিকানাধীন সংস্থাটির জন্য নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।









