কভিড-১৯ মহামারী ও ভূরাজনৈতিক সংকট মিলিয়ে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির হার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্য সূচক গত চার দশকের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশটি। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার ৭৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের এ লড়াইয়ে ভীত হবে না যুক্তরাষ্ট্র। প্রয়োজনে অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা দুর্বল হতেও রাজি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুসারে, সম্প্রতি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি নীতিনির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরেমি পাওয়েল যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেন। তিনি জানান, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৩ লাখ ৫০ হাজার কর্মী নিয়োগ করছে।

আশার কথা হলো দেশটিতে বেকারত্বের হার এখনো গত ৫০ বছরের সর্বনিম্নে রয়েছে। পাশাপাশি বেতন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের হারও বেড়েছে। তবে এ বছরের মার্চ, মে, জুনসহ এ মাসে বাড়ানোর পর ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার ২ দশমিক ২৫ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে গত চার দশকে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে মুদ্রানীতি কঠোর করছে ফেড। এর আগে মূল্যস্ফীতির হারের বিপর্যয় ঠেকাতে ১৯৮০ সালে মুদ্রানীতি এ রকম কঠোর করেছিল মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সময়ে মূল্যস্ফীতির হার দুই অংকে পৌঁছেছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক ভোক্তা মূল্য ১০ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পার না করলেও প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ে আছে। আসন্ন অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা অস্বীকার করলেও ফেড চেয়ারম্যান মার্কিন অর্থনীতি শ্লথ হয়ে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা চাই সম্ভাব্য চাহিদার চেয়ে বাজারে চাহিদা কম থাক। আমরা কোনো মন্দা চাচ্ছি না।

তবে মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারলে ভবিষ্যতে আবারো সুদহার বাড়াতে হতে পারে বলে জানান জেরেমি পাওয়েল। আগামী দুই মাসের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল করতেই হবে। এক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ফেড কর্মকর্তারা জানান, মূল্যস্ফীতির হার সাধারণ মার্কিন পরিবারগুলোর ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে, এ সম্বন্ধে অবগত আছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কর্মসংস্থান বাড়লেও ব্যয় ও উৎপাদন কমেছে।