সর্বশেষ সপ্তাহে রাশিয়ায় উৎপাদিত গমের
রফতানি মূল্য কমেছে। এ নিয়ে টানা তিন সপ্তাহ পণ্যটির রফতানি মূল্যে নিম্নমুখী
প্রবণতা বজায় রয়েছে। খাদ্যপণ্যটির অন্যান্য শীর্ষ রফতানিকারক দেশের সঙ্গে
প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি ও শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) পণ্যটির
মূল্যহ্রাস এক্ষেত্রে প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। খবর রয়টার্স ও বিজনেস
রেকর্ডার।
রাশিয়াভিত্তিক কৃষিপণ্যের বাজার
বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সভইকনের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ সপ্তাহে দেশটির বাজারে ফ্রি
অন বোর্ড (এফওবি) চুক্তিতে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রোটিনসমৃদ্ধ গমের রফতানি মূল্য কমে
টনপ্রতি গড়ে ২২০ ডলারে নেমেছে,
যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬ ডলার কম।
মস্কোভিত্তিক আরেকটা কৃষি পরামর্শবিষয়ক প্রতিষ্ঠান আইকেএআর জানিয়েছে, সর্বশেষ
সপ্তাহে রাশিয়ার বাজারে প্রতি টন গমের রফতানি মূল্য আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩ ডলার
কমে ২২০ ডলারে স্থির হয়েছে। তবে এ সপ্তাহে যবের রফতানি মূল্য অপরিবর্তিত ছিল।
প্রতি টন যবের দাম দাঁড়িয়েছিল ১৯২ ডলার।
রাশিয়া বিশ্বের শীর্ষ গম রফতানিকারক
দেশ। তবে সম্প্রতি কৃষিপণ্যটির রফতানিতে ফ্রান্স, কানাডা, ইউক্রেন, রোমানিয়াসহ
বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষ রফতানিকারক দেশের সঙ্গে রাশিয়ার প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি
পেয়েছে। পণ্যটির শীর্ষ ক্রেতারা দেশটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। যেমন মিসর অনেক
আগে থেকেই রাশিয়ার গমের দ্বিতীয় শীর্ষ ক্রেতা দেশ। প্রথম স্থানে রয়েছে তুরস্ক।
সাম্প্রতিক সময়ে উভয় দেশই রাশিয়া থেকে পণ্যটির ক্রয় কমিয়ে দিয়েছে। রাশিয়ার
পরিবর্তে তারা অন্যান্য দেশের প্রতি ঝুঁকেছে।
সর্বশেষ সপ্তাহে রাশিয়া থেকে ১ লাখ ৮০
হাজার টন গম ক্রয় করেছে মিসরের রাষ্ট্রীয় শস্য ক্রয় সংস্থা। তবে একই সময়ে রোমানিয়া
থেকে একই পরিমাণ গম ক্রয় করেছে দেশটি। এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি ফ্রান্স থেকে মোট ১
লাখ ৮০ হাজার টন গম ক্রয় করেছিল মিসর। ফলে গম রফতানিতে রাশিয়া বাজার হারাচ্ছে, যা
পণ্যটির রফতানি মূল্য হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।









