সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে আয়োজিত হলো ফার্নবরো এয়ারশো। কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর এ বছর আয়োজনটিকে নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল পরিমাণে ক্রয়াদেশ ঝুলিতে তুলেছে। এর মধ্যে বহু ক্রয়াদেশ পেয়েছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িং। জাপান টুডের এক প্রতিবেদন অনুসারে, সংস্থাটির মোট ক্রয়াদেশের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসকেও।

চার বছর পর চলতি বছর আয়োজন হয়ে গেল ফার্নবরো এয়ারশো। কভিডের প্রকোপ কিছুটা কমে আসায় উড়োজাহাজ পরিবহন খাত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। ফার্নবরো এয়ারশো উপলক্ষে বোয়িং মোট ২৯৭টি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ ঝুলিতে তুলেছে। এর বিপরীতে এয়ারবাস মাত্র ৮৫টি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ক্রয়াদেশের সংখ্যা কভিডপূর্ব ২০১৮ সালের ফার্নবরো এয়ারশো থেকে উল্লেখযোগ্য হারে কম ছিল।

মার্কিন উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা ডেলটা ১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার মূল্যে ১০০টি বোয়িং ম্যাক্স-১০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে। এছাড়া আরো ৩০টি উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাবনা জানিয়েছে।

এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে এয়ারবাস। সংস্থাটির বৃহত্তম ক্রয়াদেশ পায় ৫৬টি এ৩২০নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজের। যুক্তরাজ্যভিত্তিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা ইজিজেট ৬২০ কোটি ডলারে উড়োজাহাজগুলো কেনার চুক্তি করেছে।

বোয়িংয়ের বাণিজ্যিক বিক্রি ও বিপণন বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ইহসান মুনির বলেন, আমরা সবসময় দেখে এসেছি বছরে ৫২ সপ্তাহের মধ্যে এক সপ্তাহজুড়ে এয়ারশোটি হয়। সবাই একসঙ্গে উদযাপন করে। বিশেষ করে কভিড-১৯ মহামারীতে আমরা যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছি, সেদিক থেকে এটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এখনো চলমান। আমরা দেশীয় বাজারের ক্ষেত্রে তা দেখেছি। আন্তর্জাতিক বাজারেও তা হতে শুরু করেছে।

শিল্প বিশ্লেষক জন স্ট্রিকল্যান্ড বলেন, বোয়িং সামনে অগ্রসর করেছে। প্রধান ক্রেতা ডেলটা ও কাতার এয়ারওয়েজ থেকে ক্রয়াদেশ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে সংস্থাটি। নিরাপত্তা ও পরিষেবা মানকে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

কভিড-১৯ মহামারীর কারণে বৈশ্বিক উড়োজাহাজ শিল্প খাত স্থবির হয়ে পড়ে। চাহিদা নিম্নমুখী হয়।

এদিকে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মূল্যস্ফীতির হারও। আবার শ্রমবাজারেও প্রতিকূলতা বিদ্যমান। সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতাও দেখা দেয়।

এ বিষয়ে ব্রিটিশ ইঞ্জিন নির্মাতা রোলস-রয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়ারেন ইস্ট বলেন, সমগ্র বিশ্ব থমকে যায়। আবারো নতুন করে সবকিছু শুরু করতে হয়।

২০২৩ সালের মধ্যে ন্যারোবডির উড়োজাহাজের বাজার মহামারীপূর্ব স্তরে পৌঁছনোর পূর্বাভাস দিয়েছে এয়ারবাস। ওয়াইডবডির ক্ষেত্রে সময় লাগবে ২০২৫ সাল পর্যন্ত। বিশ্লেষকদের আশাবাদ সত্ত্বেও ওয়াইডবডি উড়োজাহাজের বাজার বিক্রি বাড়তে আরো সময়ের প্রয়োজন। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক উড়োজাহাজ পরিবহনের মাত্রা ২০১৯ সালের স্তরে পৌঁছবে। 

এদিকে এয়ারবাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গিলম ফরি বলেন, ক্রয়াদেশ বুকিংয়ের থেকে উড়োজাহাজ সরবরাহ করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় বিষয়। ক্রয়াদেশের সংখ্যা বেশ ভালোই ছিল। এবারের ফার্নবরো এয়ারশোয় আমরা মূলত সরবরাহকারীদের সঙ্গে বেশি সময় ব্যয় করেছি।