বাজারপ্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) উৎপাদনে মনোযোগ বাড়াচ্ছে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার। চলতি দশকের শেষ নাগাদ বিশ্বজুড়ে ইভি বিক্রি মোট বিক্রীত গাড়ির ৬০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ব্রিটিশ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির।

দ্য প্রিন্টের খবর অনুসারে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংস্থাটির পরিবেশবান্ধব এ গাড়ির অংশীদারত্ব ২৭ শতাংশে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও ২০২১-২২ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুসারে, গত মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে মোট গাড়ি বিক্রিতে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির হিস্যা ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।

ভারতীয় টাটা মোটরের মালিকানাধীন সংস্থাটি একটি বিবৃতিতে বলেছে, বিদ্যুচ্চালিত গাড়িতে রূপান্তর আমাদের টেকসই কৌশলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আগামী চার বছরে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার গ্রাহকদের ছয়টি ইভি মডেল উপহার দেবে। এর মধ্যে প্রথমটি বাজারে আসবে ২০২৪ সালে। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ নবজাগরণের মধ্য দিয়ে যাবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জাগুয়ার একটি পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুচ্চালিত ও আধুনিক বিলাসবহুল ব্র্যান্ড হিসেবে আবির্ভূত হবে।

২০২০ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে সংস্থাটির লক্ষ্য গাড়ির উৎপাদন ও লজিস্টিকজুড়ে ৪৬ শতাংশ কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনা। এছাড়া ক্রয়কৃত পণ্য, পরিষেবা ও পণ্যের ব্যবহার থেকে গাড়িপ্রতি ৫৪ শতাংশ নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য সংস্থাটির।

আগামী চার বছরে ল্যান্ড রোভার দুটি ডিজাইনে ছয়টি বিদ্যুচ্চালিত মডেল উন্মোচন করবে। এ পদক্ষেপ প্রতিষ্ঠানটির নজিরবিহীন নীতি পরিবর্তন এবং মূল বাজারজুড়ে ইভির চাহিদা বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে টেকসই বিষয়টি প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে উৎপাদন খাতে টেকসই জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে নানামুখী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

ভারতও এমন জলবায়ু সম্পর্কিত উদ্যোগ নিচ্ছে। ২০২১ সালের শেষ দিকে গ্লাসগোয় কপ২৬ শীর্ষ সম্মেলনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি দেন।

 এর মধ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির বাইরের বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ৫০০ গিগাওয়াটে উন্নীত এবং সব জ্বালানি চাহিদার অর্ধেক নবায়নযোগ্য থেকে উৎপাদন করার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে এ সময়ে ১০০ কোটি টন কার্বন নিঃসরণ কমাতে চায় দেশটি।