কভিডের প্রকোপ বর্তমানে কিছুটা স্তিমিত। এর মধ্যে বেড়েছে বিদেশ ভ্রমণের চাহিদা। বেশি দামে টিকিট কিনেও উড়োজাহাজ ভ্রমণে আগ্রহী যাত্রীরা। এ সত্ত্বেও চড়া ব্যয়ের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে মার্কিন উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো। তবে আশঙ্কা জেগেছে, ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার রেশ কেটে গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা অর্জনের সক্ষমতা নিয়ে।

রয়টার্সের খবর অনুসারে, মুনাফা অর্জনে আশঙ্কা দেখা দেয়ায় মার্কিন এয়ারলাইনসের শেয়ারদরে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি আমেরিকান এয়ারলাইনস গ্রুপ ও ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের শেয়ারদর ৯ শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছে। যদিও চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) সরকারি সহযোগিতা ব্যতিরেকেই লাভের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল সংস্থা দুটি।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বছরের দ্বিতীয়ার্ধেও যাত্রী চাহিদা তুঙ্গে থাকবে এয়ারলাইনসগুলোর। ভোক্তা ব্যয়ের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি ও সুদহারের ঊর্ধ্বগতি প্রধান প্রতিবন্ধকতা হতে পারে। তবে উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর জন্য অন্যতম আশঙ্কার কারণ কর্মী সংকট। পাশাপাশি পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ সংকটেও ভুগছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে করে ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো।

বাকি বছরে নতুন করে ফ্লাইট বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই ডেল্টা এয়ারলাইনসের। পাশাপাশি চলমান তৃতীয় প্রান্তিক ও চতুর্থ প্রান্তিকে সক্ষমতা মহামারীপূর্ব সময়ের তুলনায় কম রাখারই উদ্দেশ্য ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের। বরং সেপ্টেম্বরে দৈনিক ২০০ ফ্লাইট স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কর্মী সংকট কাটিয়ে উঠতে ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো। এ বছর ওভারটাইম ও প্রিমিয়াম পেমেন্টের জন্য ৭০ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে ডেল্টা এয়ারলাইনস। ২০১৯ সালের তুলনায় এ বছরের ব্যয় ৫০ শতাংশ বেশি।

এ বিষয়ে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্কট কিরবি জানান, অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করবে প্রতিষ্ঠানটি। যতক্ষণ পর্যন্ত না পুরো এভিয়েশনের অবকাঠামো স্বাভাবিক রূপ ফিরে পায়। অর্থাৎ এতে করে ব্যয়ের চাপ থাকবে।

২০২০ সালে কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাব হলে এভিয়েশন খাত বিপর্যস্ত হয়। বিধিনিষেধের কারণে প্রতিষ্ঠান চালাতে হিমশিম খায় এয়ারলাইনসগুলো। সে সময় এ প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়। এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিশেষজ্ঞরা। নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমার পর একযোগে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে কর্মীদের প্রশিক্ষণের অভাবে এখনো উপযুক্ত কর্মীর চাহিদা পূরণ হয়নি।

এদিকে প্রতিকূল হয়ে উঠেছে শ্রমবাজারও। পাইলটদের মূল বেতন ১৭ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকান এয়ারলাইনস। এর আগে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস পাইলটদের বেতনের দুই অংকের প্রবৃদ্ধির কথা জানিয়েছিল।

পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক সংকটের জের ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইনস জানায়, শিল্প খাতের জন্য চড়া জ্বালানি মূল্য স্বাভাবিক হয়ে যাবে। ২০১৯ সালের তুলনায় এ বছরের জ্বালানি ব্যয় ৯০০ কোটি ডলার বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শক্তিশালী যাত্রী চাহিদার কারণে টিকিটের দাম বাড়িয়েছিল উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো। এর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির হারের চাপ মোকাবেলা করতে এখন পর্যন্ত সক্ষম রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে অদূর ভবিষ্যতেই উড়োজাহাজ পরিবহন চাহিদা কমবে। তখন চড়া দামে টিকিট কিনতে যাত্রীরা আগ্রহী হবেন কিনা সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।