চলতি বছরের জুনে টানা তৃতীয় মাসে জাপানের প্রধান ভোক্তা মূল্যস্ফীতির হার ২ শতাংশের ওপরে রয়েছে। অথচ কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত মূল্যস্ফীতির হার ২ শতাংশ। বৈশ্বিক কাঁচামালের দামের ঊর্ধ্বমুখিতার চাপে পিষ্ট দেশের অর্থনীতি। এতে করে আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে দেশটির। সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি জাপান। ক্রমাগত দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেশটির অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হয়েছে। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে চলেছে দেশটিতে।
সরকারি তথ্য মোতাবেক, এ বছরের জুনে জাপানের ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। আবার জুনে প্রধান প্রধান ভোক্তা মূল্য সূচক গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির পর এবারই প্রধান প্রধান ভোক্তা মূল্য সূচক সব থেকে দ্রুতগতিতে বেড়েছে।
ব্যাংক অব জাপানের নির্ধারিত মূল্যস্ফীতির হার ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রাকে টপকে গেছে প্রকৃত মূল্যস্ফীতির চিত্র। এপ্রিল ও মে মাসে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার ২ দশমিক ১ শতাংশ।
এ বিষয়ে নরিনচুকিন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ তাকাশি মিনামি বলেন, খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে পারিবারিক বাজেটে। এছাড়া মহামারীর সপ্তম সংক্রমণপ্রবাহও এতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণ চালানোর জের ধরে বিশ্ববাজারে খাদ্য ও জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে দুর্বল ইয়েনের দর এ সংকটে ইন্ধন জুগিয়েছে। এতে করে আমদানি ব্যয় বেড়েছে দেশটির। ব্যাংক অব জাপানের নির্ধারিত মূল্যস্ফীতির হার অতিক্রম করার পেছনে এসব কারণকেই দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।
এ সত্ত্বেও জাপানে সার্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধির মাত্রা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় অর্থনীতির তুলনায় বেশ কম ছিল। একই সঙ্গে দেশগুলোয় কমেছে বেতন বৃদ্ধির হারও। ইউরো মুদ্রা ব্যবহারকারী মোট ১৯টি দেশের মূল্যস্ফীতির হার ৮ শতাংশের ঊর্ধ্বে পৌঁছেছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। গত মাসে যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতির হার চার দশকের সর্বোচ্চে পৌঁছে।
সম্প্রতি চলতি অর্থবছরের জন্য ব্যাংক অব জাপান প্রধান ভোক্তা মূল্যস্ফীতির হারের পূর্বাভাস ১ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত করে। ২০২৩ সালের মার্চে এ অর্থবছর সমাপ্ত হবে। অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির হারের চাপ সামলাতে এরই মধ্যে অনেক দেশই সুদের হার বাড়িয়ে চলেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কঠোর করছে মুদ্রানীতি। তবে সুদহার বৃদ্ধিতে অপারগতা স্বীকার করেছে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।









