বিশ্বে কফিশপের জন্য দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে চীনের সাংহাই শহর। একটি বেসরকারি সংস্থার সমীক্ষা অনুযায়ী, ৬ হাজার ৯১৩টি কফিশপ নিয়ে টোকিও ও লন্ডনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের শীর্ষ স্থানটি দখলে নেয় চীনের ব্যবসায়িক কেন্দ্রটি।

আন্তর্জাতিক অ্যাকাউন্টিং ফার্ম ডেলয়েটের প্রতিবেদন অনুসারে, চীনারা বছরে গড়ে ৯ কাপ কফি পান করে। সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরা ৩৬৭ কাপ ও মার্কিন নাগরিকরা ৩২৯ কাপ কফি পান করে।

তার পরও ২০২৩ সালে চীনের কফিবাজার ১৮ হাজার ৬০ কোটি ইউয়ানে (২ হাজার ৬০০ কোটি ডলার) প্রসারিত হবে বলে আশা করছে দেশটির সরকার। চীনে এত বেশি কফিশপ খোলার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, দেশটির তরুণ ব্যবসায়ীরা ক্যাফে ব্যবসার মাধ্যমে স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন।

এমন তরুণদের একজন সং উইজে। তার জন্ম ১৯৯৩ সালে। তিনি ২০১৭ সালে চীনা পোস্ট অফিস চালুর উদ্দেশ্যে সাংহাইতে পোস্ট ক্যাফে চালু করেন। স্বল্প জায়গার ওপর নির্মিত ক্যাফেটি একটি নিউজস্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহূত হতো। এর আগে তিনি তার বাবার পরামর্শে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করেন। কিন্তু নিজের আগ্রহ না থাকায় তিনি সেটি ছেড়ে দেন। এবং একটি কেকের দোকানে কাজ শুরু করেন। সেখানেই তিনি প্রথমবার কফি পান করেন।

এ অভিজ্ঞতা নিয়েই তিনি কফিশপ চালুর সিদ্ধান্ত নেন। ৩০ হাজার ইউয়ান (৪ হাজার ৩০০ ডলার) নিয়ে ছোট আকারে কফিশপ চালু করেন। তার কফিশপটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ক্যাফে হিসেবে চীনের স্পটলাইটের অধীনে এসেছিল। এটির জনপ্রিয়তা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে ক্রেতারা কফিশপের বাইরে সারিবদ্ধ হয়ে কফি পান করতেও ইচ্ছুক ছিলেন। সং উইজে বলেন, আমার কফিশপটি কেনার জন্য সাংহাইয়ের একটি বড় ক্যাফে চেইন থেকে অফার এসেছিল।

জায়গায় পরিবর্তন ও ইজারা পুনরায় নবায়ন প্রক্রিয়ার কারণে সং উইজে এখন বন্ধুর কফিশপে কাজ করছেন। পাশাপাশি নতুন তিনটি কফিশপ এবং একটি কফি সরবরাহকারী ট্রাক চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

কফিশপের মাধ্যমে সফলভাবে ক্যারিয়ার গড়া অনেক চীনা নাগরিকেরই স্বপ্ন। তেমনই একজন হলেন স্টার্টআপ চেইন ম্যানার কফির প্রতিষ্ঠাতা হ্যান ইউলং। একজন চীনা নাগরিক হিসেবে যিনি তার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি সাংহাইয়ের একটি শপিং এলাকায় অল্প জায়গায় কফিশপের দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি দেশজুড়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন। ২০২১ সালে হ্যান ইউলংয়ের কফিশপটি চীনের বৃহত্তম ফুড ডেলিভারি অ্যাপ পরিচালনা করা মিতুয়ান থেকে বিনিয়োগ পেয়েছিল।

ম্যানার কফি একটি ইউনিকর্নে পরিণত হয়েছে। এখনো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়া প্রতিষ্ঠানটির মূল্য ১০০ কোটি ডলার। এটি চীনের ক্যাফে শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবেও পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি চীনে বেকারত্ব হারের নতুন রেকর্ড হয়েছে। গত জুনে দেশটিতে ১৬-২৪ বছর বয়সের মানুষের বেকারত্বের হার ১৯ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এমনকি দেশটির অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা এখনো বেকার রয়েছেন। চীনের এসব নাগরিকের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সহজ পথ ক্যাফে চালু করা। কফি মেশিন ও বৃহৎ পুঁজি ছাড়াই এ ব্যবসায়ে সফল হওয়া যায় বলে মনে করছেন দেশটির ক্যাফে ব্যবসায়ীরা।