যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি রাষ্ট্রীয় শ্রম আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন ট্রাকচালকরা। মার্কিন সংবাদ সংস্থা এপির বরাতে জানা যায়, তীব্র আন্দোলনের মুখে অকল্যান্ডের প্রধান কনটেইনার বন্দর পোর্ট অব ওকল্যান্ডের কার্গো পরিবহন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে পোর্ট অব অকল্যান্ড জানায়, এতে কনটেইনারের যানজট আরো বাড়বে। বন্দর কর্মকর্তারা পণ্য পরিবহনের টার্মিনাল আবারো চালু করতে জোর দিচ্ছেন। গত সোমবার শত শত ট্রাকচালক রাষ্ট্রীয় শ্রম আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করলে দেশটির অন্যতম শীর্ষ ব্যস্ততম কনটেইনার বন্দরটির কার্গো পরিবহন বন্ধ হয়।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসেম্বলি বিল ফাইভ শ্রম আইন পাস হয়। এ আইনের ফলে কর্মীদের চুক্তির ভিত্তিতে কাজ করানো হয়। এতে প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি হারিয়ে যায়। ফলে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। পাশাপাশি এতে বেতনের পরিমাণও কমে। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ৭০ হাজার ট্রাকচালকের প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে স্বীকৃতিদান অনুমোদিত হয়।
প্রাথমিকভাবে একে শোষিত ট্রাকচালকদের জন্য বিরাট বিজয় বলে অভিহিত করে ইন্টারন্যাশনাল ব্রাদারহুড অব টিমস্টারস। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে মামলা করে ক্যালিফোর্নিয়া ট্রাকিং অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটি জানায়, এ আইনের ফলে বিপাকে পড়েছেন স্বাধীন ট্রাকচালকরা। তারা নিজস্ব ট্রাকে করে ঘণ্টা ভিত্তিতে আয় করেন। এ আইনের ফলে জোরপূর্বক তাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। ফলে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও এ ট্রাকচালকদের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক কিছু বিধিনিষেধ এসে পড়ে। সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করতে অপারগতা স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। এতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রাকচালকরা। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাচ্ছেন তারা।
নতুন আইনটি কবে প্রয়োগ শুরু হবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এ বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের পরিচালক ডিডি মায়ারস এক ই-মেইলে জানান, এখন আইন মেনে সামনে অগ্রসর হওয়ার সময়। একসঙ্গে কাজ করে ন্যায় ও টেকসই শিল্প খাত তৈরি করতে সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।
এরই মধ্যে কনটেইনার জট নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছে বন্দরগুলো। কভিড-১৯ মহামারীর কারণে বন্দরে কার্গো পরিবহন ব্যাহত হয়। তবে সম্প্রতি নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমায় ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট শিল্প খাত।
পোর্ট অব ওকল্যান্ডের নির্বাহী পরিচালক ড্যানি ওয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ বুঝতে পারছি। তবে বন্দর কার্যক্রমের স্থবিরতা প্রলম্বিত হলে সব ধরনের ব্যবসা কার্যক্রম ব্যাহত হবে।









