যুক্তরাজ্যে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী ফার্নবরো এয়ার শো। বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা এ উপলক্ষে চার বছর পর হ্যাম্পশায়ারের ফার্নবরো বিমানবন্দরে সম্মিলিত হয়েছে। এবারের ফার্নবরো এয়ার শোর আয়োজনে প্রাধান্য পাবে নিরাপদ বা পরিবেশবান্ধব উড়োজাহাজের জ্বালানি নিশ্চিত করা।

দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, সাধারণত প্রতি দুই বছরের ব্যবধানে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। তবে ২০২০ সালে কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাব হলে ওই বছর অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়।

পরিবেশের ওপর উড়োজাহাজের নেতিবাচক প্রভাব কাটাতে রোলস রয়েস ও এফটিএসই ১০০-এর নির্মাতারা জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেন ব্যবহারের পরীক্ষা চালাচ্ছে। নির্মাতাদের জানান, ২০৩০ সালের মাঝামাঝি সময়ে নিরাপদ জ্বালানির ছোট ও মাঝারি আকারের উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।

কভিডের প্রকোপ কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় আছে এয়ারলাইনসগুলো। বেড়েছে যাত্রীদের চাহিদাও। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস, ফার্নবরো এয়ার শোতে এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের শত শত উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ মিলবে। 

ব্রাজিলের উড়োজাহাজ নির্মাতা এমব্রেয়ার সম্প্রতি জ্বালানি সংস্থা রাইজেনের সঙ্গে একটি চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে। মূলত টেকসই এভিয়েশন ফুয়েল উৎপাদন বাড়াতেই চুক্তিটি করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করতে টেকসই এভিয়েশন জ্বালানির বিষয়ে শিল্প খাতটি আশাবাদী। বড় উড়োজাহাজের জন্য নিট জিরো ফ্লাইট পরিচালনা করার বিষয়ে আগ্রহী এভিয়েশন শিল্প খাত। যদিও এক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত সরবরাহ পথের কাঁটা।

যুক্তরাজ্যের ব্যবসা, জ্বালানি ও শিলা কৌশলবিষয়ক সচিব কোয়াসি কোয়াতেং বলেন, ফার্নবরো এয়ার শোর পুনরায় ফিরে আসা মূলত এভিয়েশন শিল্প খাতের ঘুরে দাঁড়ানোকেই ইঙ্গিত করে। পৃথিবী বিশুদ্ধ জ্বালানির ফ্লাইট পরিচালনার দিকে ঝুঁকছে। ফলে বর্তমানে ব্যাপক হারে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে সংস্থাগুলোর।