চলতি মাসে সমুদ্রপথে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি তেল ও ভ্যাকুয়াম গ্যাস অয়েল (ভিজিও) রফতানি করেছে রাশিয়া। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সরবরাহের অংশ হিসেবে এশিয়ার বাজার যুক্ত হলো। খাতসংশ্লিষ্ট ও রেফিনিটিভ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। তবে এর আগেই রাশিয়া বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল, বিশেষ করে এশিয়ায় জ্বালানি তেল ও ভিজিওর চালান শুরু করেছে।

রেফিনিটিভের তথ্যানুযায়ী, মার্চে রাশিয়ার সমুদ্রবন্দর থেকে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় জ্বালানি তেল ও ভিজিওর সরবরাহ ১১ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। এর সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে লোডিংয়ের বিষয়ও জড়িত। সামগ্রিকভাবে রাশিয়ার জ্বালানি তেল এবং ভিজিওর রফতানি ২০২২ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রফতানির পরিমাণ ৪৫ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। কেননা ফেব্রুয়ারিতে ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে জাহাজীকরণ দেরি হওয়ায় বর্তমানে ব্যবসায়ীরা উদ্বৃত্ত থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে ফুজাইরা রাশিয়ান অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ পেয়েছে। চলতি মাসে তা তিন লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

রেফিনিটিভের তথ্যানুযায়ী, রাশিয়ার জ্বালানি তেলনির্ভর কিছু পণ্য এক জাহাজ থেকে আরেক জাহাজে স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ায় পৌঁছায়। চলতি মাসে রাশিয়ার বন্দর থেকে কালামাতা বন্দরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ৮ থেকে ১০ লাখ টনের থাকতে পারে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, রাশিয়ার বিভিন্ন বন্দর থেকে জ্বালানি তেলবোঝাই ট্যাংকারের চূড়ান্ত গন্তব্য এখনো নিশ্চিত নয়। তাই মার্চে রাশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় জ্বালানি তেল রফতানি ১০ লাখ টনের বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমার মতে বিশাল এ সরবরাহের একটি বড় অংশ সংরক্ষণের জন্য পানির ওপরই থাকবে।’

রেফনিটিভের তথ্যানুযায়ী, মার্চে রাশিয়ার বিভিন্ন বন্দর থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে চার লাখ টন জ্বালানি তেল ও ভিজিওপূর্ণ জাহাজ তুরস্কে পৌঁছাতে পারে। যেখানে ভারতে দেশটি থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে ১ লাখ টনে নেমে এসেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসনের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়লেও রাশিয়ার ডিজেল বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসে দেশটির ডিজেল রফতানি রেকর্ড স্পর্শ করতে যাচ্ছে। ২০১৬ সালের পর এবারই প্রথম এক মাসে বিপুল ডিজেল রফতানির পথে দেশটি।

২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই দিন জ্বালানিটির ওপর বেঁধে দেয়া হয় প্রাইস ক্যাপ। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসে দেয়া হয় ডিজেলসহ পরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও প্রাইস ক্যাপ। এর উদ্দেশ্য ছিল জ্বালানি বাণিজ্যে রাশিয়াকে পঙ্গু করে দেয়া। কিন্তু ঘটেছে তার উল্টো। পশ্চিমা দেশগুলোর বিকল্প বাজারে অল্প সময়েই জায়গা করে নিয়েছে রাশিয়া।

চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে রাশিয়া থেকে প্রতিদিন ১৫ লাখ ব্যারেল ডিজেল রফতানি হয়েছে বলে বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। মার্চের এ হিসাব ফেব্রুয়ারির চেয়ে অনেক বেশি। ভরটেক্সা বলছে, এভাবে চললে চলতি মাসে ২০১৬ সালের পর মাসভিত্তিক ডিজেল রফতানির রেকর্ড হবে।

রাশিয়ার ডিজেলবাহী কার্গোগুলোর প্রধান গন্তব্য তুরস্ক ও মরক্কো। এছাড়া তিউনিশিয়া ও ব্রাজিলও রাশিয়া থেকে তেল কিনছে। এমনকি বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদক সৌদি আরবও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশটি থেকে তেল কিনছে।