যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দায় এ বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা কমতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন বিশ্বের তেল রফতানিকারক জোট ওপেকের প্রধান হাইথাম আল ঘাইস। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে একটি কনফারেন্সে তিনি এ শঙ্কা প্রকাশ করেন।

ওপেক প্রধান বলেন, ‘এশিয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অভাবনীয় চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের আর্থিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতিতে আমরা উদ্বিগ্ন। দুই ধরনের বিভক্ত বাজার আমরা দেখতে পাচ্ছি। একটিতে প্রতিশ্রুতিশীল প্রবৃদ্ধি রয়েছে, তো আরেকটিতে মন্দা দেখা যাচ্ছে।’ 

বিশ্বের বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত চীনের অর্থনৈতিক প্রত্যাবর্তন ঘটবে বলে আশা করছে ওপেক। জোটটি বলছে, গত মাসে প্রতিদিন এক লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েছে। এ বছর বিশ্বব্যাপী এর চাহিদা দৈনিক ২৩ লাখ ব্যারেল বাড়বে বলেও আশা করছে ওপেক।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার গত মাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জানুয়ারিতে রাশিয়ার জ্বালানি তেল রফতানি ডিসেম্বরের তুলনায় দৈনিক তিন লাখ ব্যারেল বেড়েছে। একই সময়ে রাশিয়ার রাজস্ব দাঁড়িয়েছিল ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার, যা ডিসেম্বরের তুলনায় বেশি।

ওপেক প্রধান মনে করেন, যেভাবে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ছে, সে অনুযায়ী যথেষ্ট বড় রয়েছে বাজার। তবে ভবিষ্যতের ঘাটতি এড়াতে জ্বালানি তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গত বছর ওয়ার্ল্ড অয়েল আউটলুকে ওপেক জানিয়েছিল, ২০৪৫ সাল পর্যন্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের জন্য ১২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রয়োজন হবে।

ওপেকের আশঙ্কা, চাহিদা বাড়লেও এ বছর নানামুখী চ্যালেঞ্জে থাকবে জ্বালানি তেলের বাজারে। বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, চীনে মহামারীতে সৃষ্ট স্থানীয় চ্যালেঞ্জ ও দেশটির রিয়েল এস্টেটের উদ্বেগ জ্বালানি খাতে বড় সমস্যা বয়ে আনতে পারে। এছাড়া রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহ ব্যাপক আকারে কমার আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে রাশিয়া জানিয়েছিল, দেশটি দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমাবে। পশ্চিমা দেশগুলো পরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর ‘প্রাইস ক্যাপ’ ঘোষণায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ওপেক মনে করছে, চলতি বছর রাশিয়ার জ্বালানি তেল উত্তোলন দৈনিক নয় লাখ ব্যারেল করে কমতে পারে।

তবে চীনের ব্যাপারে আশাবাদী ওপেক। জোটটি জানায়, চীনের অর্থনীতি কভিড-১৯-এর ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় দেশটির জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়বে।