ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র বাদে বেশির ভাগ উৎপাদনকারী দেশে বিদায়ী বছরে তুলা উৎপাদনে মন্দা ভাব বজায় ছিল। এর প্রভাব পড়েছে পণ্যটির বাজার পরিস্থিতিতে। উৎপাদনস্বল্পতার জের ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন থেকেই তুলার দামে চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে।

মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি কেজি তুলার গড় দাম ছিল ১ ডলার ৬৭ সেন্ট। পরের মাসে পণ্যটির গড় দাম কমে দাঁড়ায় কেজিপ্রতি ১ ডলার ৫৬ সেন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ কম। বিদায়ী বছরের শেষ ছয় মাসে এটাই তুলার সর্বনিম্ন গড় দাম।

এরপর তুলার দাম ক্রমেই বেড়েছে। বিদায়ী বছরের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজারে ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি কেজি তুলার গড় দাম দাঁড়ায় ১ ডলার ৫৭ সেন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। অক্টোবরে ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি কেজি তুলার গড় দাম আরো ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে ১ ডলার ৬৩ সেন্টে উন্নীত হয়।

নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজারে ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি কেজি তুলার গড় দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১ ডলার ৬৫ সেন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি। বছরের শেষ মাসে পণ্যটির গড় দাম ছিল কেজিপ্রতি ১ ডলার ৬৭ সেন্ট, যা আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালে এটাই তুলার সর্বোচ্চ গড় দাম।

ইউএসডিএ জানিয়েছে, গত বছর ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে তুলা উৎপাদন আগের তুলনায় বেড়েছে। বিপরীতে চীন, ব্রাজিল, পাকিস্তানের তুলা উৎপাদন খাতে মন্দা ভাব বজায় ছিল। এ মন্দা ভাবের প্রভাব পড়েছে তুলার বাজারে। শীর্ষ উৎপাদনকারী বেশির ভাগ দেশে তুলা উৎপাদন কমে আসায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম বাড়িয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস আতঙ্ক তুলার দাম আরো বাড়াতে পারে।