দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে অব্যাহত বাড়ছে গম ও আটা-ময়দার দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাশিয়া -ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ভারত থেকে রফতানি বন্ধ থাকার কারণে বাজারে সরবরাহ কম। এ কারণেই বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে গম ও এটি থেকে উৎপাদিত আটা-ময়দা। ১৫ দিনের ব্যবধানে বাজারে গমের দাম বেড়েছে মণপ্রতি ২০০ টাকা। আর আটা-ময়দার দাম বেড়েছে ২০০-২৫০ টাকা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে কানাডা থেকে আমদানীকৃত গম বেচাকেনা হচ্ছে মণপ্রতি ১ হাজার ৯৪০ টাকা। এক মাস আগেও একই গম বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে। সে হিসেবে দাম বেড়েছে ২৪০ টাকা। 

আটা-ময়দা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইউক্রেনের লাল গম ১৫ দিন ধরে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। ভারতীয় গমের সরবরাহও নেই। ফলে কানাডার গমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে আটা-ময়দার বাজার। আর এ সুযোগে গম ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি, বাজারে গমের দাম বাড়ায় আটা-ময়দার দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। 

বাজারে ভালো মানের আটা (৫০ কেজির বস্তা) বেচাকেনা হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ টাকায়। ১৫ দিন আগেও যা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা বস্তা দরে। সে হিসেবে আটার দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৪ টাকায়।

ভালো মানের ময়দা (৫০ কেজির বস্তা)  বেচাকেনা হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ টাকায়। ১৫ দিন আগে একই মানের ময়দা বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৬০০ টাকা দরে। সে হিসেবে বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে ২০০ টাকা। অন্যদিকে প্রতি কেজি ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকায়। 

নগরীর মাসদাইর বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুদি দোকানে আটা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে। আর ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। সেখানকার মুদি দোকানি নুর মোহাম্মদ জানান, নিতাইগঞ্জ থেকে দুই বস্তা আটা মাসদাইর বাজারে আনতে ৫০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। প্রতিটি বস্তা পরিবহন পর্যন্ত নিয়ে আসতে শ্রমিকদের দিতে হয় ১০ টাকা করে। এছাড়া দোকানের কর্মচারী খরচ, বিদ্যুৎ বিল, দোকান ভাড়াসহ সব খরচ মিটিয়ে বেশি দামে বিক্রি না করলে লাভ হয় না। 

এদিকে ভাঙানো ময়দা থেকে তৈরি ভুসি (৩৭ কেজির বস্তা) বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০ টাকায়। পণ্যটির দাম গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।