এবার ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নিয়েছে ক্রেডিট সুইস। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে কর্মিবাহিনীর প্রতি ১০ জনের মধ্য একজন কমিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এমন পদক্ষেপ নিয়ে সুইজারল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংকটির প্রায় পাঁচ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের মখোমুখি হবেন। পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

অতিরিক্ত ব্যয় কমানো নিয়ে ক্রেডিট সুইস ও সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। যদিও এ পরিকল্পনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ব্যাংকটি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আয়ের প্রতিবেদনের সঙ্গে কৌশল পর্যালোচনার হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করা হবে।

২০২২ সালকে ক্রেডিট সুইস ট্রানজিশন বছর হিসেবে অভিহিত করেছে। এ বছরেই বিনিয়োগ ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকি কমাতে পুনর্গঠন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে এগোবে প্রতিষ্ঠানটি।

জুরিখভিত্তিক ব্যাংকটি বিক্রি কিংবা বিভক্ত হতে পারে এমন জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে তারা। ব্যাংকের সূত্রটি জানিয়েছে, কর্মী ছাঁটাই নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এ সংখ্যা এখনো কম-বেশি হতে পারে। এর আগে সুইস সংবাদপত্র ব্লিক একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ক্রেডিট সুইস তিন হাজারেরও বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করবে।

ব্যাংকটি এরই মধ্যে জানিয়েছে, চলতি বছর বার্ষিক ১ হাজার ৬৮০ কোটি ফ্রাঁর বিপরীতে মধ্যমেয়াদে ১ হাজার ৫৫০ কোটি ফ্রাঁ ব্যয় কমিয়ে আনা হবে। তবে এখন পর্যন্ত ব্যাংকটি কর্মী ছাঁটাইয়ের কোনো রূপরেখা দেয়নি। মাত্র এক মাস আগে ক্রেডিট সুইসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছিলেন উলরিচ কোরনার। তাকে বিনিয়োগ ব্যাংকিংয়ের কার্যক্রমের পরিসর ছোট করতে এবং ১০০ কোটি ডলারের বেশি খরচ কমানোর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কৌশলগত পর্যালোচনার অংশ হিসেবে তিনি ব্যাংকের জন্য বিকল্পগুলো মূল্যায়ন করবে এবং ধনী গ্রাহকে পরিষেবা দেয়ার প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করবে। ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ানো এবং আর্থিক স্থিতিস্থাপকতা উন্নত করতে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে ক্রেডিট সুইস। ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকরা অনুমান করেছেন, এ পরিস্থিতি থেকে উন্নতি করতে এবং পুনর্গঠনে ব্যাংকটিকে ৪০০ কোটি সুইস ফ্রাঁ মূলধন বাড়াতে হবে।

৬৯ বছর বয়সী উলরিচ কোরনার একজন পুনর্গঠন বিশেষজ্ঞ। দুই বছরের অস্থিরতার পর গত আগস্টে তিনি থমাস গটস্টেইনের স্থলাভিষিক্ত হন। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং শেয়ারদরে ৪০ শতাংশ পতনের কারণে ভয়াবহ সময় পার করছে ব্যাংকটি। আইনি খরচ বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ক্রেডিট সুইস ১৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ লোকসান গুনেছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ ব্যাংকিং বিভাগই করপূর্ব ১১২ কোটি সুইস ফ্রাঁ হারিয়েছে।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান আর্কিগোস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ৫৫০ কোটি ডলার লোকসান এবং ব্রিটিশ ফাইন্যান্সার গ্রিনসিলের সঙ্গে যুক্ত সরবরাহ ব্যবস্থার অর্থায়ন তহবিলের ১ হাজার কোটি ডলার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্রেডিট সুইসের লোকসান বেড়েছে।

গত জুনে ক্রেডিট সুইস একটি ফৌজদারি বিচারে বুলগেরিয়ান কোকেন পাচারকারী চক্রের অর্থ পাচার প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল। যদিও এর বিরুদ্ধে আপিল করছে ব্যাংকটি।