বেশকিছু মুদ্রার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের বিনিময় হার গতকাল ২০ বছরের সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের প্রধান জেরোমি পাওয়েল ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সুদের হার দীর্ঘসময় বেশি রাখা হবে বলে ইঙ্গিত দেয়ার পরে বাজারে এমন চিত্র দেখা যায়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডলার সূচক দুই দশকের সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে। গতকাল দিনের শুরুতে এশিয়ার মানি এক্সচেঞ্জে ডলার সূচক ছিল ১০৯ দশমিক ৪। ডলার আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠার কারণে অন্য বড় বড় মুদ্রার মান নতুন করে নেমে যাচ্ছে, সেই সঙ্গে তাদের সহযোগী উন্নয়নশীল বাজারগুলোর ওপর প্রভাব পড়ছে।

এশিয়ার বাণিজ্যে জাপানিজ ইয়েনের বিপরীতে ডলারের মান দাঁড়ায় ১৩৮ দশমিক ৫৯, যেটা গত ২১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। এর আগে সর্বশেষ মান দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়ে ১৩৮ দশমিক ৪৮৫-এ গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। এ সময়ে ইউয়ানের দাম নেমেছে দুই বছরের সর্বনিম্নে, প্রতি ডলারে ৬ দশমিক ৯৩২১-এ।

আড়াই বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম হয়েছে পাউন্ডের দাম। পাউন্ডের মান যুক্তরাষ্ট্রের ডলার ১ দশমিক ১৬৫৬তে এসে দাঁড়িয়েছে। এর আগে সর্বশেষ পতন হয়েছিল দশমিক ৫ শতাংশ। সেবার দাম দাঁড়িয়েছিল ১ দশমিক ১৬৭১৫ ডলারে। একই সময়ে দশমিক ৩৬ শতাংশ পতন হয়ে ইউরোর মান দাঁড়িয়েছে দশমিক ৯৯২৯ ডলারে।

সিঙ্গাপুরের মুদ্রার বিপরীতেও বেড়েছে ডলারের দাম। দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৩৯৯ সিঙ্গাপুরি।

এভাবে নড়াচড়ার কারণে ডলারের দাম বেড়ে যায় শুক্রবার, যখন পাওয়েল সতর্কবার্তা জানিয়ে বলেন, বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন ব্যবসার জন্য কিছুটা সমস্যা থাকবে। কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আরো কিছুটা সময় লাগবে ফেডের।

কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার কারেন্সি স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট কারোল কং বলেন, আমার মনে হয় চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ডলার ইনডেক্স আরো ওপরের দিকে উঠে ১১০ পয়েন্টে দাঁড়াতে পারে। ঠিক যেমনভাবে বড় বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আক্রমণাত্মক কঠোর চক্রের মধ্যে থেকে বিভিন্ন অংশগ্রহণ করা বাজার আরো বেশি দাম বাড়িয়ে থাকে।