বিশ্বজুড়ে বেড়েছে কোকা-কোলার দাম। একই সঙ্গে বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, থিম পার্ক ও অন্যান্য ভেন্যুতে বেড়েছে কোকের চাহিদা। ফলে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) আয় বেড়েছে মার্কিন পানীয় জায়ান্টটির। অব্যাহত মুনাফার পরিপ্রেক্ষিতে এবার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বছরের শুরুতে ৭-৮ শতাংশ হারে আয় বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হলেও এখন সেটি বাড়িয়ে ১২-১৩ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। খবর এপি।

কোকা-কোলার তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে আয় ১২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাস ছিল যে, এ সময়ে আয় বেড়ে ১ হাজার ৫৬ কোটি হতে পারে। কিন্তু বাস্তব হিসাব সে পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।

অর্থনৈতিক নানা সংকটের কারণে বিশ্বের সব দেশেই বেড়েছে কাঁচামালের দাম, পরিবহন ব্যয়। আর এ কারণেই দাম বাড়াতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোকের চেয়ারম্যান ও সিইও জেমস কুইন্সি। তিনি বলেন, দাম বাড়লেও চাহিদায় প্রভাব পড়েনি।

তবে এখনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত দেয়ার সময় আসেনি বলেও জানান কোকের সিইও। তিনি বলেন, দেখা গিয়েছে, স্বল্প আয়ের ভোক্তারা আর্থিক কারণে দোকানে গিয়ে কম দামি ব্র্যান্ডগুলোর খাবার খুঁজছেন। কিন্তু পর্যটন এলাকা, স্টেডিয়াম ও থিম পার্কগুলোয় বেড়েছে কোকা-কোলার চাহিদা।

জেমস কুইন্সি আরো বলেন, কভিড মহামারী পরবর্তী ভোক্তাদের ব্যয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পরিবর্তন হয়েছে। বলা যেতে পারে, তাদের ক্রয়ক্ষমতা সংকুচিত হয়েছে। এখন পরিস্থিতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে যে থাকবে, বিষয়টি তেমন নয়। আরো অনেক কিছুই হতে পারে, বছর শেষেই সেটি বোঝা যাবে।

পরিসংখ্যান বলছে, চিনিমুক্ত কোকা-কোলা বা জিরো কোকের বিক্রি বেড়েছে ১২ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে এ পানীয়টির বেশ শক্তিশালী চাহিদা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কিছু দেশের বাজারে কোস্টা কফি নামে একটি নতুন ব্র্যান্ড ছেড়েছে কোকা-কোলা। সেটির বিক্রিও দ্বিতীয় প্রান্তিকে বেড়েছে ১৫ শতাংশ।

উত্তর আমেরিকায় কোকা-কোলা কোম্পানির পণ্য বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ২ শতাংশ। কেবল কোকা-কোলাই নয়, তুলনামূলক উচ্চমূল্যের পানীয় ফেয়ারলাইফ মিল্ক এবং স্মার্টওয়াটারের বিক্রি থেকেও বড় লভ্যাংশ এসেছে কোম্পানিটির ঘরে।

তবে পরিচালন ব্যয় ও বিপণন খাতের ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ার কারণে মুনাফায় প্রভাব পড়েছে। কোকা-কোলা বলছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে নিট মুনাফা ২৮ শতাংশ কমেছে। অবশ্য এ লোকসানের জন্য রাশিয়ায় ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া কথা বলা হয়েছে।