চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) প্রত্যাশার থেকে আয় কমেছে ম্যাকডোনাল্ড’সের। কভিডজনিত কারণে চীনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এর প্রভাব পড়েছে ফুড জায়ান্টটির আয়ের ওপর।
এপির খবর অনুসারে, এপ্রিল-জুন সময়ে শিকাগোভিত্তিক ফুড জায়ান্টটির আয় ৩ শতাংশ কমে ৫৭২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। অথচ এর আগে ওয়াল স্ট্রিটের এক পূর্বাভাসে বলা হয়, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আয় হবে ৫৮০ কোটি ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দোকানে বিক্রি বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
এ বিষয়ে ম্যাকডোনাল্ড’সের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা কেভিন ওজান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক সস্তা খাবারের ব্যবসা কমেছে। পাশাপাশি বিক্রি কমেছে কমবো মিলের। সংশ্লিষ্টরা জানান, কভিড-১৯ মহামারীর শুরুতে লকডাউনের কারণে বড় ধরনের ক্রয়াদেশ পেয়েছে ফুড জায়ান্টটি। তবে বর্তমানে সে তুলনায় ভোক্তা কমেছে প্রতিষ্ঠানটির।
বিক্রি নিম্নমুখী হওয়ার জন্য দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করা হচ্ছে। চলতি বছর মূল্যবৃদ্ধির হার ৮-৯ শতাংশ হবে। এছাড়া চলতি বছর খাদ্য ও কাগজের ব্যয় ১২-১৪ শতাংশ বাড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি শ্রমবাজারেও চলছে প্রতিকূলতা। এ বছর শ্রম ব্যয় ১০ শতাংশ বেড়েছে।
এ বিষয়ে ম্যাকডোনাল্ড’সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেমপজিনস্কি বলেন, উচ্চ আয়কারী মার্কিনরা দামি কোনো রেস্তোরাঁয় বসার পরিবর্তে ম্যাকডোনাল্ড’সে বসার আগ্রহ রাখেন। নানা প্রতিকূলতার কারণে আমরা দাম বাড়াচ্ছি। তবে এ ধাক্কা সামলাতে পারছেন ভোক্তারা।
ভোক্তাদের ম্যাকডোনাল্ড’সমুখী করতে অনলাইন অফার চালু করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির অ্যাপ ডাউনলোড ঊর্ধ্বমুখী হয়। নানা অফারের মধ্যে ছিল স্পাইসি চিকেন ম্যাকনাগেটস ও চকোলেটিপ্রেটজেল ম্যাকফ্লারি।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে ম্যাকডোনাল্ড’সের ব্যয় ২৫ শতাংশ বেড়ে ৪০১ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির নিট আয়ের ওপর। ম্যাকডোনাল্ড’সের মুনাফা ৪৬ শতাংশ কমে ১১৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে রাশিয়ার ৮৫০টি দোকানের বিক্রিজনিত ১২০ কোটি ডলারের চার্জ আওতাভুক্ত। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাশিয়ার রেস্তোরাঁগুলো ম্যাকডোনাল্ড’সের লাইসেন্সধারীর কাছে বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি। ওই লাইসেন্সধারী সাইবেরিয়ায় ২৫টি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করে।
ইউক্রেনে রুশ হামলার জের ধরেই রাশিয়ার কার্যক্রমে এ পরিবর্তন আনে ম্যাকডোনাল্ড’স। দুই দেশের সংঘাতের জের ধরে রাশিয়ার ওপর বিরূপ হয় পশ্চিমা মহল। এরই ধারাবাহিকতায় পশ্চিমা বহু প্রতিষ্ঠানই রাশিয়া থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়।









