চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে টার্গেট করপোরেশনের মুনাফায় বড় পতন হয়েছে। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট স্টোর চেইনের মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯০ শতাংশ কমেছে। উচ্চমূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তারা অতিপ্রয়োজনীয় নয় এমন পণ্যে ব্যয় কমিয়ে দেয়ায় এমনটা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, মজুদ বেড়ে যাওয়ায় টার্গেটসহ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো পোশাক, গৃহস্থালি ও ইলেকট্রনিকসের মতো সাধারণ পণ্যের দাম কমাতে বাধ্য হয়েছে। উচ্চমূল্যস্ফীতির কারণে খাবার ও জ্বালানির পেছনে ভোক্তাদের অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে। ফলে অতিপ্রয়োজনীয় নয় এমন পণ্যের ব্যয়ে তাদের কাটছাঁট করতে হয়েছে।

এদিকে টার্গেটের দাম কমানোর পদক্ষেপও মজুদ কমাতে খুব বেশি ভূমিকা পালন করেনি। বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এক বছর আগের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি মজুদ নিয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

টার্গেট জানিয়েছে, গুদামগুলোয় থাকা অতিপ্রয়োজনীয় নয় এমনের পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে এনেছে। তবে মূল্য ছাড় দিয়ে সেই পণ্যগুলো বিক্রি করায় স্বল্পমেয়াদে মুনাফার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এপ্রিল-জুন সময়ে সংস্থাটির মুনাফা ১৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারে নেমেছে। এ মুনাফার পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের ১৮০ কোটি ডলার থেকে উল্লেখযোগ্য কম। এছাড়া সংস্থাটির সামঞ্জস্য মুনাফা শেয়ারপ্রতি ৩৯ সেন্টে নেমেছে। যদিও বিশ্লেষকরা শেয়ারপ্রতি ৭২ সেন্ট মুনাফার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। যদিও এ সময়ে সংস্থাটির আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা বেড়ে ২ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। টানা সাত প্রান্তিকে শক্তিশালী মুনাফা বাড়ার পর প্রথম প্রান্তিকে সংস্থাটির মুনাফা সংকুচিত হয়। সে সময় মুনাফা কমার হার ছিল ৪০ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে সংকোচনের হার আরো বেড়েছে।

মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কার কারণে ভোক্তারা অতিপ্রয়োজনীয় নয় এমন পণ্যে ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন। যদিও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ অবদান রাখে ভোক্তা ব্যয়। এ প্রবণতা টার্গেটের মতো খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক পরিবেশ চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। টার্গেটের মতো সাধারণ পণ্যের দোকানগুলোয় গত মাসে খুচরা বিক্রি জুনের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য না করলেও সামগ্রিক খুচরা বিক্রি সমতল ছিল।