বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ক্রমবর্ধমান থাকায় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে ইউনিলিভার। এপ্রিল-জুন সময়ে পণ্যের মূল্য ১১ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে ব্রিটিশ ভোক্তা পণ্য জায়ান্টটি। এ পদক্ষেপের কারণে চলতি বছরের প্রথমার্ধে বেন অ্যান্ড জেরি আইসক্রিম থেকে শুরু করে ডাভ স্কিন কেয়ার ব্র্যান্ডের মালিকানা প্রতিষ্ঠানটির আয়ও বেড়ে গিয়েছে।

এপির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউনিলিভারের নিট বিক্রি ৮ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। পণ্যমূল্য বাড়ানোর পদক্ষেপ সংস্থাটির আয় বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের জেরে গম ও রান্নার তেল থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক গ্যাস ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পর্যন্ত প্রায় সবকিছুরই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এ পরিস্থিতি পণ্য উৎপাদনকে আরো ব্যয়বহুল করে তুলেছে।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যালান জোপ বলেন, মূল্যস্ফীতিজনিত চ্যালেঞ্জগুলো অব্যাহত রয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী সামষ্টিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অনিশ্চিত রয়ে গিয়েছে। তবে আমরা ২০২২ ও আগামী বছরগুলোয় কার্যকরী উত্কর্ষতা ও বিতরণ ব্যবস্থায় নিবিড়ভাবে মনোনিবেশ করছি।

চলতি বছরের প্রথমার্ধে ২ হাজার ৯৬০ কোটি ইউরো (৩ হাজার কোটি ডলার) আয় করেছে ইউনিলিভার, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে যা ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। আয় বাড়ায় এ সময়ে সংস্থাটির পরিচালন মুনাফা ৪৫০ কোটি ইউরোয় উন্নীত হয়েছে। এছাড়া এপ্রিল-জুন সময়ে সংস্থাটির আয় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৮০ কোটি ইউরোয় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে শক্তিশালী বিক্রি দ্বিতীয় প্রান্তিকে সংস্থাটির আয় বাড়াতে সহায়তা করেছে।

২০২২ সালের আয়ের পূর্বাভাস সংশোধন করেছে ভোক্তা পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি। পণ্য উৎপাদন ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও সংস্থাটি আয় বৃদ্ধিতে আগের পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৫ থেকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইউনিলিভারের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চব্যয় মোকাবেলা এবং গ্রাহক হারানোর মতো পরিস্থিতিতে ভারসাম্য আনতে হিমশিম খাচ্ছে।