সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জ্বালানি তেলবহির্ভূত বাণিজ্য ঊর্ধ্বমুখী। চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশটির এ বাণিজ্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে আরব দেশটির জ্বালানি তেলবহির্ভূত বাণিজ্য ১ লাখ ৫ হাজার ৩০০ কোটি দিরহামে (২৮ হাজার ৬৭৩ কোটি ডলার) পৌঁছেছে। দুবাইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর ন্যাশনাল নিউজ।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারই প্রথমবারের মতো ইউএইর জ্বালানি তেলবহির্ভূত বাণিজ্য ১ লাখ দিরহাম ছাড়িয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির জ্বালানি তেলবহির্ভূত রফতানি ৮ শতাংশ বেড়ে ১৮ কোটি দিরহামে পৌঁছেছে। এ সময়ে জ্বালানি তেলের বাইরে ৫৮ হাজার কোটি দিরহামের আমদানি করেছে দেশটি। আমদানির পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি।
ইউএইর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বগতি রয়েছে উল্লেখ করে শেখ মোহাম্মদ বলেন, আমাদের বাণিজ্যিক অবকাঠামো ব্যবস্থা সর্বোত্তম পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল এবং সবার জন্য উন্মুক্ত। আগামী বছরও আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখবে।
সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলবহির্ভূত বাণিজ্যের এ পরিসংখ্যান উঠে এসেছে ইউএইর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বগতির কারণে। এর আগে কভিডজনিত বিধিনিষেধ এবং জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়েছিল।
ইউএইর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অথনৈতিক অঞ্চল আরব। ২০২১ সালে এ অঞ্চলের অর্থনীতি ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে ওই অঞ্চলের অর্থনীতি যথাক্রমে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ৪ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে দেশটির অর্থনীতি ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রসারিত হয়েছে। ইউএই বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে ও বিনিয়োগ বাড়াতে চলতি বছর ভারত, ইসরায়েল এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের চুক্তিও সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে দেশটি।
শেখ মোহাম্মদ এক টুইট বার্তায় বলেন, মানবজাতির জন্য কঠিন রোগ কভিড-১৯ মহামারীতেও আমরা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।
পৃথক এক বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক বলেন, ইউএই বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক উন্মুক্ততা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি অবকাঠামো ও আইনি কাঠামোকে শক্তিশালী করছে। বছরের প্রথমার্ধে জ্বালানি তেলবহির্ভূত বাণিজ্যের উল্লম্ফন দেশটির ইতিহাসে অর্থনেতিক উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউএইর লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য সম্পর্ক বিস্তৃত করা। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় অর্থনীতিকে দ্বিগুণ করতে বাণিজ্যের শক্তিশালী অবদান ধরে রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।









