দেশে ক্রমাগতভাবে কমছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ডলার সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছে উৎপাদনমুখী শিল্পগুলো। এমন প্রেক্ষাপটে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বিদেশী ঋণ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ ও কাঁচামাল আমদানি করতে চায় শিল্পের মালিকরা। একই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি উৎসে কর প্রত্যাহারের সময়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিদেশী ঋণের সুদে প্রথমবারের মতো ২০ শতাংশ উৎসে কর আরোপ করেছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে ডলারের ওপর চাপ তৈরি ও এ ঋণ পরিশোধের খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে এনবিআরকে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে বিদেশী ঋণের ওপর উৎসে কর অব্যাহতির দাবি জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিবি)। বিভিন্ন মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ খাতে দুই ধাপে ২০২৪ সালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত উৎসে কর অব্যাহতি দিয়েছে এনবিআর।
এদিকে ২০২৪ সালের পরও যাতে এ সুবিধা অব্যাহত রাখা যায় সেজন্য ব্যবসায়ীরা তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সূত্রে জানা যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, ‘অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি আছে। তাদের কাছ থেকে নেয়া ঋণের ওপর উৎসে কর কার্যকর হবে না। যাদের সঙ্গে চুক্তি নেই তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এতে দ্বৈত করারোপ হতে পারে। ফলে ব্যবসায়ীদের ব্যয় বেড়ে যাবে এবং ডলারের ওপরও চাপ পড়বে। বিনিয়োগকারীর ওপর আরোপ করা হলেও এটা মূলত ব্যবসায়ীকেই পরিশোধ করতে হবে। তাই এ খাতে দীর্ঘমেয়াদি উৎসে কর প্রত্যাহারের সময়সীমা বাড়ালে উৎপাদনমুখী শিল্পগুলোর পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সম্প্রতি বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান এক চিঠিতে জানান, এনবিআরের এ সিদ্ধান্ত বৈদেশিক মুদ্রা সংকট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে এবং রফতানিকারকরা চাহিদা অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার জোগান দিতে সহায়তা পাবে। এছাড়া বিদেশী ঋণের সুদে উৎসে কর অব্যাহতির এ সুবিধা নিয়মিত বহাল রাখার জন্য বিজিএমইএ তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। ওই চিঠিতে আরো জানা যায়, মূলধনি যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ অন্যান্য বিভিন্ন প্রয়োজনে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নেন পোশাক শিল্প মালিকরা। এনবিআরের আইন কার্যকর থাকলে বিদেশী ঋণের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ বেশি বৈদেশিক মুদ্রা পরিশোধ করতে হতো। তবে কর অব্যাহতি সুবিধার ফলে বিদেশী ঋণের ব্যয় কমবে।
এ বিষয়ে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘসময়ের জন্য এরই মধ্যে কর অব্যাহতি দিয়েছি। পরবর্তী সময়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে সেটা ডলারের ওই সময়ের বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। এখন যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সেটা ডলার সংকটের কারণেই নেয়া হয়েছে। দেশ যদি এ সংকট থেকে বেরিয়ে আসে বা সারা বিশ্বে যদি অর্থনৈতিক সংকট পরিস্থিতির উন্নতি হয়, তাহলে এ বিদেশী ঋণের উৎসে কর অব্যাহতি সুবিধা চলমান রাখা সম্ভব হবে না। এ সুবিধা এখন পাচ্ছে ঋণদাতা, তো তার ক্ষেত্রে এ সুবিধা পাওয়া সমীচীনও না। এখন যে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এ সময়ের মধ্যে দেশের ঋণগ্রহীতারা যাতে বিদেশী ঋণদাতার সঙ্গে তাদের ঋণের চুক্তির সমন্বয় করতে পারে।









