বিশ্বজুড়ে খাদ্যদ্রব্যের দাম অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী। কভিড-১৯ মহামারীর পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এতে ইন্ধন জুগিয়েছে। লাভবান হচ্ছে বৈশ্বিক খাদ্যশস্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থাগুলো। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর উইন্ডফল কর আরোপের দাবি জোরালো হয়েছে। সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো শিল্প খাত থেকে মোটা অংকের মুনাফা পেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর উইন্ডফল কর আরোপ করা হয়।

বিশ্বের শীর্ষ চার শস্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কয়েক দশক ধরে বৈশ্বিক শস্য বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। আরচার-ড্যানিয়েলস-মিডল্যান্ড কোম্পানি, বাঞ্জ, কারগিল ও লুই ড্রেফাস-এবিসিডি নামে পরিচিত এ চারটি প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক শস্য বাণিজ্যের প্রায় ৭০-৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানগুলোর রেকর্ড পরিমাণ বিক্রি ও মুনাফার দেখা দিয়েছে। পূর্বাভাস বলছে, ২০২৪ সালের মধ্যে সরবরাহকে ছাড়িয়ে যাবে চাহিদার পরিমাণ। ফলে আগামী দুই বছরে বিক্রি ও মুনাফার ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত থাকবে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছর খাদ্যপণ্যের দাম ২০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের তথ্য বলছে, প্রায় ৩৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মহামারীর আগে এ সংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৫০ লাখ।

এ বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অব এক্সপার্টস অন সাসটেইনেবল ফুড সিসটেমসের (আইপিইএস-ফুডস) সহসভাপতি অলিভার ডে শুটার বলেন, বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এ সময় বৈশ্বিক পণ্য জায়ান্টগুলো রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন করছে। বৈশ্বিক ক্ষুধা সমস্যা মেটাতে এ প্রতিষ্ঠানগুলো আরো কাজ করতে পারত। জ্বালানি বাজারের তুলনায় বৈশ্বিক শস্যবাজারের আয়ের হিসাব অস্বচ্ছ। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের মুনাফা করার সুবিধা আরো বেশি।

তিনি আরো বলেন, এ বছর প্রচুর খাদ্যের মজুদ হওয়ার কথা ছিল। এ সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে যে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে খাদ্যের মজুদ আছে, তাদের মধ্যে স্বচ্ছতা নেই। মজুদগুলো বাজারে সরবরাহের বিষয়েও তাদের বাধ্য করা যায় না।

৩১ মে সমাপ্ত অর্থবছরে কারগিলের আয় ২৩ শতাংশ বেড়ে ১৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। অন্যদিকে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ মুনাফা পেয়েছে আরচার-ড্যানিয়েলস-মিডল্যান্ড। দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিক্রি বেড়েছে বাঞ্জেরও। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি ১৭ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। যদিও পূর্ববর্তী চার্জের জন্য প্রতিষ্ঠানটির মুনাফায় প্রভাব পড়েছে। গত বছর লুই ড্রেফাসের মুনাফা ৮০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬২ কোটি ডলার।

শস্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা ফুলেফেঁপে ওঠায় উইন্ডফল আরোপের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অনুদান নেটওয়ার্ক বন্ডের নীতি ব্যবস্থাপক সান্ড্রা মার্টিনসন বলেন, খাদ্যবাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে ও দরিদ্র দেশগুলোর সহযোগিতার জন্য এরই মধ্যে উইন্ডফল কর আরোপের কথা ভাবা হচ্ছে। বৈশ্বিক খাদ্যসরবরাহ চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম হলে দাম বৃদ্ধির সুযোগ থাকে। এছাড়া উইন্ডফল করারোপের দাবি করেছে অক্সফামও।