২০১৯-২০ বিপণনবর্ষে বিশ্বজুড়ে মোট ১২ কোটি ৩০ লাখ বেল (প্রতি বেলে ৪৮০ পাউন্ড) তুলা উৎপাদন হতে পারে, আগের বিপণনবর্ষের তুলনায় যা ২ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে কৃষিপণ্যটির আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে পণ্যটির অন্যতম শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানে উৎপাদন কমতে পারে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়া হয়েছে। খবর ফাইবারটুফ্যাশনডটকম।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছরের ১ আগস্ট থেকে তুলার বিপণনবর্ষ শুরু হয়, যা শেষ হয় পরের বছরের ৩১ জুলাই। ইউএসডিএর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ বিপণনবর্ষে তুলার বৈশ্বিক উৎপাদন দাঁড়িয়েছিল ১১ কোটি ৮৬ লাখ বেল। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে কৃষিপণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন ২৭ লাখ টন বাড়তে পারে। পণ্যটির উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম ভূমিকা রাখতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বিপণনবর্ষে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ তুলা উৎপাদনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যটির আবাদ ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে এবং অনুকূল আবহাওয়ার জেরে দেশটির ডেল্টা ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে প্রচুর তুলা উৎপাদনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছে। 

পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন বাড়াতে অন্যতম প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করতে পারে ভারত। আবাদি জমি বৃদ্ধি ও উচ্চ ফলনের জেরে ২০১৯-২০ বিপণনবর্ষে চীনকে টপকে বিশ্বের শীর্ষ তুলা উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে ভারত। এ সময় দেশটিতে সব মিলিয়ে ২ কোটি ৯৫ লাখ বেল তুলা উৎপাদন হতে পারে, যা আগের বিপণনবর্ষের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি এবং গত পাঁচ বছরের মধ্যে দেশটিতে পণ্যটির সর্বোচ্চ উৎপাদন।

অন্যদিকে ২০১৯-২০ বিপণনবর্ষে অস্ট্রেলিয়ার তুলা উৎপাদন খাতে ধস নেমেছে। দেশটিতে গত কয়েক বছর ধরে টানা খরা বিরাজ করছে, যা ২০১৯ সালে এসে মারাত্মক আকার ধারণ করে। একই অবস্থা বিদ্যমান পাকিস্তানের তুলা খাতেও। এদিকে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ থেকে ছিটকে চলতি বিপণনবর্ষে পণ্যটি উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে নেমে যেতে পারে চীন। এ সময় দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন ২০১৮-১৯ বিপণনবর্ষের তুলনায় সামান্য কমে ২ কোটি ৭৩ লাখ বেলে নামতে পারে। প্রতিকূল আবহাওয়াও দেশটির তুলা উৎপাদন হ্রাসের জন্য দায়ী। 

তবে হেক্টরপ্রতি ফলনে ভারতের তুলনায় চীন এখনো ঢের এগিয়ে। চীনে ২০১৯-২০ বিপণনবর্ষে প্রতি হেক্টরে গড়ে ১ হাজার ৭২০ কেজি করে তুলা উৎপাদিত হতে পারে। যেখানে ভারতে হেক্টরপ্রতি পণ্যটির উৎপাদন দাঁড়াতে পারে গড়ে ৪৯৪ কেজি। বিলম্বিত বৃষ্টিপাত ও পিংক বলওয়ার্ম পোকার উপদ্রব্যের মধ্যেও ভারতে তুলার আবাদি জমি আগের বিপণনবর্ষের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৩০ লাখ হেক্টরে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ, যা দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন বাড়িয়ে তোলার প্রধাণ কারণ।