চলতি বছরের জুলাইয়ে ব্রিটিশ পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় গড়ে ১৬০ পাউন্ড বেড়েছে। দেশটির সুপারমার্কেট আসডার এক গবেষণায় বলা হয়, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জের ধরে ক্রেতাদের কেনাকাটা কমবে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির হারের ঊর্ধ্বমুখিতা ব্রিটিশ পরিবারগুলোর ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

আসডা জানিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি আগের প্রান্তিকের তুলনায় শ্লথ ছিল। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিক্রি কমেছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) জ্বালানি বাদে অন্যান্য পণ্যের বিক্রি ৯ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। আসডা জানিয়েছে, জাস্ট এসেনশিয়ালস সেগমেন্টের পণ্য বিক্রি করে তুলনামূলক বেশি লাভবান হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্রেতাদের লক্ষ্য করেই এ সেগমেন্ট তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বছরের মে মাসে নতুন সেগমেন্টটি চালু করা হয়। বর্তমানে সেগমেন্টটিতে ফল, শাকসবজি, তাজা মাংস ও মাছসহ মোট ২২০টি পণ্য রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মূল্যসচেতন ক্রেতাদের মধ্যে এ সেগমেন্ট বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতি তিনজন ক্রেতার একজন জাস্ট এসেনশিয়ালস পণ্যের ক্রেতা।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সব থেকে সুলভ মূল্যে ফল বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আসডা। প্রতিষ্ঠানটি আরো জানিছে, ড্রপড অ্যান্ড লকড ক্যাম্পেইন সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এ ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য অনুসারে চলতি বছরের বাকি মাসগুলোয় প্রায় ২৫০টি পণ্যের মূল্যে কোনো পরিবর্তন হবে না।

এ বিষয়ে আসডার অন্যতম মালিক মোহসিন ইসা বলেন, প্রতি সপ্তাহে লাখ লাখ ভোক্তা আমাদের দোকানে আসেন বা অনলাইনে আমাদের থেকে পণ্য কেনেন। আমরা জানি, এদের মধ্যে অনেকেই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত রয়েছেন, যা শিগগিরই প্রশমনের কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। এ ভোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দিতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এর জন্য ড্রপড অ্যান্ড লকড ও আসডার ক্যাফেতে কিডস ইট ফর ওয়ান পাউন্ডসহ বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ বছরের জুনে কিডস ইট ফর ওয়ান পাউন্ড অফারটি চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি শিশুখাদ্য ক্যাফেগুলোয় পরিবেশন করা হয়েছে।

এদিকে চলতি মাসে খুচরা বিক্রি প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন ও দোকানে ভোক্তাদের জন্য নতুন একটি অ্যাপ্লিকেশনও চালু করেছে। এতে করে চেকআউটের সময়ে ক্যাশ পট ফেরত দেয়া হয় ক্রেতাদের। এরই মধ্যে ২০ লাখেরও বেশি ক্রেতা অ্যাপটি ডাউনলোড করেছেন। এখন পর্যন্ত মোট ৭০ লাখ পাউন্ডের ক্যাশ পট ক্রেতাদের সংগ্রহে এসেছে। অর্জিত এ ক্যাশ পট আসডায় পুনরায় ব্যয় করতে পারবেন ক্রেতারা।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনূর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সের ভোক্তারা। আসডার গবেষণায় বলা হয়, বাড়ি ভাড়া, পণ্যদ্রব্যের মূল্য, পরিবহন ব্যয় ও জ্বালানি বিল বাড়ায় এ অভিঘাত আছড়ে পড়েছে ব্রিটিশ নাগরিকদের ওপর। আসডার প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩০ বছরের নিম্নে কর ও অন্যান্য বিল মেটানোর পর যুক্তরাজ্যবাসীদের খরচযোগ্য আয় বাঁচে সপ্তাহে মাত্র ১৫০ পাউন্ড।