চলতি বছরের শুরুর দিক থেকেই এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি। এবার বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় আরো একধাপ এগিয়ে গেলেন ভারতীয় এ ধনকুবের। বেহনা আহনোকে ছাড়িয়ে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ ধনী হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন গৌতম আদানি। ফরাসি বিলাসপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচের চেয়ারম্যান নেমে গিয়েছেন চতুর্থ অবস্থানে। এ নিয়ে প্রথমবারের মতো এশীয় কোনো ব্যক্তি এ অবস্থানে উঠেছেন। খবর সিএনএন।

গত কয়েক বছর গৌতম আদানি কয়লা থেকে বন্দর, ডাটা সেন্টার থেকে শুরু করে সিমেন্ট, মিডিয়া ও অ্যালুমিনিয়াম পর্যন্ত সবকিছুতে ব্যবসা বিস্তৃত করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত আদানি গ্রুপ এখন ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি খাতের বন্দর ও বিমানবন্দর পরিচালনাকারী, গ্যাস সরবরাহকারী এবং কয়লা খনির মালিক।

ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুসারে, বর্তমানে গৌতম আদানির সম্পদ ১৩ হাজার ৭৪০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি মার্কিন ধনকুবের ইলোন মাস্ক ও জেফ বেজোসের পরের অবস্থানে চলে গিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় কয়লা খনি পরিচালনা নিয়ে পরিবেশবাদীদের সমালোচনার মুখে গত বছরের নভেম্বরে তিনি পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে ৭ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেন। এর মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনকারী হতে চায় আদানি গ্রুপ।

সম্পদে উল্লম্ফনের কারণে গ্রুপটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কনগ্লোমারেটে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়টি উদ্বেগও বাড়িয়েছে। কারণ আদানির প্রকল্পগুলোয় মূলত ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়েছে। অতিরিক্ত ঋণনির্ভর হওয়ায় আদানির এ সাম্রাজ্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে ক্রেডিটসাইটস। এছাড়া কিছু আইন প্রণেতা ও বাজার পর্যবেক্ষক অস্বচ্ছ শেয়ারহোল্ডার কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবুও আদানি গ্রুপের শেয়ারের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। এর মধ্যে কিছু শেয়ারদর ২০২০ সাল থেকে ১ হাজার শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। আদানি ব্যবসা বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে এমন খাতগুলোকে বেছে নিয়েছেন, যেগুলো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। 

২০২২ সালেই গৌতম আদানির সম্পদে ৬ হাজার ৯০ কোটি ডলার যুক্ত হয়েছে। তার সম্পদ বাড়ার পরিমাণ অন্য ধনীদের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি এশিয়ার শীর্ষ ধনী হিসেবে মুকেশ আম্বানিকে ছাড়িয়ে যান। এরপর এপ্রিলে তার সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হয়। সর্বশেষ গত মাসে তিনি মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ ধনী হিসেবে জায়গা করে নেন। মার্কিন বিলিয়নেয়ারদের সম্পদ কমার বড় একটি কারণ হলো সম্প্রতি তারা দাতব্য কার্যক্রম বাড়িয়েছেন। জুলাইয়ে বিল গেটস বলেছিলেন, তিনি বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনে ২ হাজার কোটি ডলার স্থানান্তর করেছেন। যখন আরেক মার্কিন বিলিয়নেয়ার ওয়ারেন বাফেট দাতব্য সংস্থায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার অনুদান দেয়ার কথা জানান।

দাতব্য কাজে ব্যয় বাড়ানোয় ব্লুমবার্গ সম্পদের র্যাংকিংয়ে তারা নিচে চলে গিয়েছেন। এ তালিকায় বিল গেটস এখন পঞ্চম ও ওয়ারেন বাফেট ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। এদিকে আদানিও দাতব্য অনুদান বাড়িয়েছেন। গত জুনে ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে তিনি সামাজিক কারণে ৭৭০ কোটি ডলার অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।