দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন ঊর্ধ্বমুখী ছিল দেশের পুঁজিবাজার। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কমে যাওয়ায় এদিন প্রাণবন্ত ছিল বাজার। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি লেনদেন বেড়েছে ২৮ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক ও লেনদেন ছিল ইতিবাচক প্রবণতায়। 

তথ্য অনুসারে, গতকাল দিন শেষে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৫ দশমিক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ২৭০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৬ হাজার ২৪৪ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইর ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ ৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ৯৪ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গতকাল দিন শেষে ৪ দশমিক ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩৬৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৩৬২ পয়েন্টে। 

গতকাল সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল পূবালী ব্যাংক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রিমিয়ার ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, প্রাইম ব্যাংক, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস, ফু-ওয়াং ফুড ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের। 

ডিএসইতে গতকাল ৪৪১ কোটি ১৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৩৪৪ কোটি ৪৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৯২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ১১৯টির, কমেছে ৪৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৬৯টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৪ দশমিক ২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে ছিল প্রকৌশল খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ২ শতাংশ দখলে ছিল ব্যাংক খাতের। ১১ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত। মোট লেনদেনের ৮ দশমিক ১ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। আর মিউচুয়াল ফান্ড খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৭ দশমিক ২ শতাংশ। গতকাল ডিএসইতে ইতিবাচক রিটার্নের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল সাধারণ ভ্রমণ, কাগজ ও পাট খাত। আর নেতিবাচক রিটার্নের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল টেলিকম, খাদ্য ও জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ খাত।