যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ওয়েলস ফারগো অ্যান্ড কোম্পানির মুনাফা অব্যাহতভাবে নিম্নমুখী ছিল। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) সংস্থাটির মুনাফা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সম্ভাব্য ঋণখেলাপি মোকাবেলায় মুনাফার অর্থ দিয়ে তহবিল আরো বাড়িয়েছে ওয়েলস ফারগো। আবার চড়া সুদহারের কারণে প্রতিষ্ঠানটির বন্ধকি ঋণ ব্যবসাও চাপে পড়েছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ বৃহত্তম ব্যাংক ওয়েলস ফারগো অ্যান্ড কোম্পানি। বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩১০ কোটি ডলারে। সে হিসেবে শেয়ারপ্রতি মুনাফা ৭৪ সেন্ট। গত বছর ওয়েলস ফারগোর মুনাফা ছিল ৬০০ কোটি ডলার। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ১ ডলার ৩৮ সেন্ট। এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ওয়েলস ফারগোর ঋণ সঞ্চিতি ছিল ৫৮ কোটি ডলার। ঋণের পরিমাণ বাড়ার কারণে অতিরিক্ত ২৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বেড়েছে সঞ্চিতিতে।

সম্প্রতি কভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কা কাটিয়ে উঠে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। তবে অদূর ভবিষ্যতে মার্কিন অর্থনীতিতে আবারো মন্দার আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়েলস ফারগোর প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মাইক সানটোমাসিমো। এ বিষয়ে তিনি বলেন, খুচরা ও ব্যবসায়িক ভোক্তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে ফের কোনো অর্থনৈতিক দুর্দশার জন্য প্রস্তুত ব্যাংকটি। পরিস্থিতি আরো মন্দার দিকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বড় বড় ব্যাংকের কর্মকর্তারা এরই মধ্যে সতর্কবাণী দিয়েছেন। জেপি মরগান চেজ অ্যান্ড কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেমি ডিমন সামষ্টিক অর্থনীতিতে আসন্ন এক ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছেন।

এদিকে গত চার দশকের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অস্থিতিশীল বাজার পরিস্থিতির কারণে বিনিয়োগ ব্যাহত হয়েছে। কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন মার্কিন ব্যাংকগুলো।

জেপি মরগান ও ওয়েলস ফারগোর পূর্বাভাস বলছে, চলতি প্রান্তিকে বাড়ি ভাড়া দেয়া কমেছে। এর কারণ হিসেবে উচ্চ সুদহারকে দায়ী করা হচ্ছে। অন্যদিকে কর্মী সংকট তীব্রতর হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থায়। একই দশা ওয়েলস ফারগোরও। সাম্প্রতিক সময়ে কর্মী ছাঁটাই করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ওয়েলস ফারগো জানিয়েছে, সুদবিহীন ব্যয় কমেছে ৩ শতাংশ।

গত বছরের তুলনায় এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ক্রেডিট কার্ড আয় বেড়েছে ৭ শতাংশ। অটোমোবাইল ঋণ আয় বেড়েছে ৫ শতাংশ। ব্যক্তিগত ঋণ আয় ৭ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর ওয়েলস ফারগোর গড় ঋণের পরিমাণ ছিল ৮৫ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার। এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা ৯২ হাজার ৬৬০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। ঋণ প্রবৃদ্ধি ও সুদহার বৃদ্ধি নিট সুদ আয় বাড়িয়ে তুলেছে।