ক্রমবর্ধমান জ্বালানির দাম। দুর্বল রয়ে গিয়েছে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের বিনিময় হার। এ অবস্থায় আমদানিতে আরো বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে জাপানকে। ফলে জুলাইয়ে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি ইয়েন (১ হাজার ৭০ কোটি ডলার) বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে দেশটি। এ নিয়ে টানা দ্বাদশ মাসে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির বাণিজ্য ঘাটতি ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি তথ্যে এ পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।

কিয়োদো নিউজের খবরে বলা হয়েছে, গত মাসে জাপানের আমদানি ব্যয় ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১০ লাখ ১৯ হাজার কোটি ইয়েনে পৌঁছেছে। এ নিয়ে টানা ১৮ মাস দেশটির আমদানি ব্যয় রেকর্ড ভেঙে চলেছে। এটি বাণিজ্য ঘাটতিকেও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছতে ভূমিকা রেখেছে। যদিও আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে রফতানিতে উল্লম্ফন দেখা যায়নি। এ সময়ে দেশটির রফতানি আয় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৮ লাখ ৭৫ হাজার কোটি ইয়েনে দাঁড়িয়েছে। এটিও টানা ১৭তম মাসের মতো বেড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে, জুলাইয়ের আমদানি ও রফতানি মূল্য ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে সর্বশেষ তুলনামূলক তথ্য পাওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ ছিল। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘায়িত বাণিজ্য ঘাটতির অধীনে আয়ের বহিঃপ্রবাহ এমন সময়ে প্রতিষ্ঠান ও পরিবারগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যখন কভিডের বিপর্যয় কাটিয়ে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেশি হওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়ে গিয়েছে। অন্যদিকে গাড়ি ও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ডিভাইস এবং ফিলিপাইনে ডিজেল চালানোর হাত ধরে রফতানিও প্রসারিত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা আমদানি ও রফতানি মূল্য বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

গত মাসে পেট্রোলিয়াম আমদানি ব্যয় বেড়ে ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি ইয়েনে পৌঁছেছে। এ নিয়ে টানা ১৬তম মাসে এ ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এ সময়ে ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রার বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১৩৬ দশমিক শূন্য ৫ ইয়েনে। ইয়েনের এ মূল্যমান গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ দশমিক ১ শতাংশ কম।

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি ৪৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি ইয়েনে পৌঁছেছে। এ সময়ে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে জাপানের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ২২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৫১ হাজার ২৮০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা আমদানি ব্যাপক হারে বাড়িয়েছে জাপান। কারণ দেশটি ইউক্রেনে আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রুশ জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে আনতে চাইছে টোকিও।

চীন থেকে আমদানি ও রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যথাক্রমে ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ১২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও সেলফোন চীনা পণ্য আমদানি ব্যয় ২ লাখ ২১ হাজার কোটি ইয়েনে পৌঁছতে ভূমিকা রেখেছে। যেখানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে রফতানি ১ লাখ ৭৮ হাজার কোটি ইয়েনে উন্নীত হয়েছে। এক্ষেত্রে জাপানি চিপ ও অডিও ভিজ্যুয়াল ডিভাইসসহ ইলেকট্রনিক উপাদানগুলো রফতানি বাড়াতে সহায়তা করেছে।