নভেল করোনাভাইরাস প্রকোপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাজার সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখতে শস্য রফতানিতে কোটা বেঁধে দিয়েছে রাশিয়া। এর পরও দেশটি থেকে খাদ্যশস্য রফতানি অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়ছে। খাতসংশ্লিষ্টরা ধারণা করেছেন, আগামী মাসের মাঝামাঝিতেই পণ্যটির রফতানি কোটা পূর্ণ হয়ে যাবে। এরপর নির্দিষ্ট সময়ের আগে শস্য রফতানি বন্ধ করে দিতে পারে দেশটি। এমন আশঙ্কা থেকে সর্বশেষ সপ্তাহে দেশটিতে গমের রফতানি মূল্যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

ফ্রি অন বোর্ড চুক্তিতে সর্বশেষ সপ্তাহে রাশিয়ায় উৎপাদিত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রোটিনসমৃদ্ধ গমের রফতানি মূল্য আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬ ডলার বেড়ে টনপ্রতি গড়ে ২৩১ ডলারে উঠেছে। দেশটির শস্যবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সভইকন সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। একই সময়ে ঊর্ধ্বমুখী থাকতে দেখা গিয়েছে যবের দামও। সর্বশেষ সপ্তাহে রাশিয়ায় যবের রফতানি মূল্য দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি গড়ে ১৮০ ডলারে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩ ডলার বেশি।

মস্কোভিত্তিক আরেকটি কৃষিবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইকেএআর জানিয়েছে, সর্বশেষ সপ্তাহে রাশিয়ার প্রতি টন গমের গড় রফতানি মূল্য ছিল ২৩২ ডলার, আগের সপ্তাহের তুলনায় যা টনপ্রতি ৫ ডলার বেশি। একই সময়ে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে চলতি গ্রীষ্মে বাজারে ওঠা নতুন গমের রফতানি মূল্য বেড়ে ১৯৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় যা ৩ ডলার বেশি।

রাশিয়া বিশ্বের শীর্ষ গম রফতানিকারক দেশ। ভুট্টা, যবসহ অন্যান্য শস্য রফতানিতেও আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির অবস্থান বেশ দৃঢ়। তবে নভেল করোনাভাইরাস প্রকোপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাজারে আটা-ময়দা এবং রুটির দাম ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দেশটি চলতি মাস থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত গমসহ অন্যান্য শস্য রফতানির নির্দিষ্ট কোটা বেঁধে দেয়। রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় এ সময়ে ব্যবসায়ীদের মোট ৭০ লাখ টন গম রফতানির অনুমতি দিয়েছে। তবে দেশটি থেকে খাদ্যপণ্যটির রফতানি অপ্রত্যাশিতভাবে বাড়ছে। এতে আগামী মাসের মাঝামাঝিতেই এ কোটা পূর্ণ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার উপকৃষিমন্ত্রী ওকসানা লুত জানিয়েছেন, শস্য রফতানির ক্ষেত্রে সরকারের বেঁধে দেয়া কোটা পূরণ হয়ে গেলে ছয় সপ্তাহের জন্য রফতানি স্থগিত করতে পারে দেশটি। পরিস্থিতি যা পূর্বাভাস দিচ্ছে, তাতে মে মাসের মাঝামাঝি নাগাদ দেশটির শস্য রফতানি কোটা পূরণ হয়ে যেতে পারে। এরপর থেকে নির্ধারিত সময়ের আগে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের অঞ্চলের বাইরে দেশটি থেকে কোনো শস্য রফতানি করা হবে না। অবশ্য এ সিদ্ধান্তের পুরোটাই রফতানি কোটা পূরণের গতির ওপর নির্ভর করছে।

এ সময় তিনি বলেন, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের জন্য শস্য রফতানি কোটা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই রাশিয়ার। এমনকি আগামী ২০২০-২১ বিপণন মৌসুমেও শস্য রফতানিতে কোটা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে পারে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রতি বছরের ১ জুলাই থেকে রাশিয়ায় নতুন বিপণন মৌসুম শুরু হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১০ সালে সব ধরনের খাদ্যশস্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল রাশিয়া। এ সময় মাত্রাতিরিক্ত খরায় রাশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের শস্য উৎপাদনে ধস নেমেছিল। ফলে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিতে খাদ্যশস্য রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটি। রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি গম আমদানি করে তুরস্ক, মিসর ও বাংলাদেশ।