পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসির ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গতকাল বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৮৯২তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভা শেষে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে, রূপালী ব্যাংকের অনুমোদিত বন্ডটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি পুরোপুরি অবসায়নযোগ্য, এর কুপন রেট পরিবর্তনশীল এবং এটি রূপান্তরযোগ্য নয়। রেফারেন্স রেটের সঙ্গে ২ শতাংশ মার্জিন যোগ করে এর কুপন রেট নির্ধারিত হবে। বন্ডটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী একক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করা হবে। বন্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য ১ কোটি টাকা। বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থে রূপালী ব্যাংক ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী টায়ার-২ মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করবে। এ বন্ডের ট্রাস্টির দায়িত্বে রয়েছে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং অ্যারেঞ্জার হিসেবে রয়েছে সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস লিমিটেড। বন্ডটি স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত হবে। গত জুনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে বন্ড ইস্যুর বিষয়ে অনাপত্তিপত্র পেয়েছিল রূপালী ব্যাংক।

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) রূপালী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২০ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির  শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৬ টাকা ৯৩ পয়সায়। এদিকে চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১৩ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৮ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।

সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি ব্যাংকটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৬১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৮ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩৬ টাকা ১০ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৩৭ টাকা ১৩ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। 

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে রূপালী ব্যাংক। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। আগের হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি ব্যাংকটি। ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডাররা। এছড়া ২০১৭ হিসাব বছরের জন্য ২৪ শতাংশ স্টক, ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ স্টক ও ২০১৫ হিসাব বছরের জন্য ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্যাংকটি।

১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রূপালী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৭০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৪৬৫ কোটি ৬৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫৩২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ব্যাংকটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৪৬ কোটি ৪৬ লাখ ৯৭ হাজার ২০৫। এর মধ্যে ৯০ দশমিক ১৯ শতাংশ সরকারের কাছে, ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল রূপালী ব্যাংকের শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ২৭ টাকা ৭০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ২৫ টাকা ২০ থেকে ৩৮ টাকা ৪০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে।