ভারতীয় সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল নিউ দিল্লি টেলিভিশন (এনডিটিভি) অধিগ্রহণ করতে চান এশিয়ার শীর্ষ ধনী গৌতম আদানি। এরই মধ্যে কোম্পানিটির শেয়ারের একটি বড় অংশ অধিগ্রহণ করেছেন তিনি। এখন বাকি শেয়ারগুলোও কিনে নিয়ে কোম্পানিটি নিজের মালিকানায় করে নিতে চাইছেন এ ধনকুবের। তবে এনডিটিভি বলছে, কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা তাদের সম্মতি ছাড়াই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। খবর নিক্কেই এশিয়া ও বিবিসি।

এনডিটিভির মতো সুপরিচিত টেলিভিশন চ্যানেল কিনতে গৌতম আদানির এ পদক্ষেপের খবর ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোয় বেশ আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। এর কারণ মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার সখ্যতা।

চলতি সপ্তাহে এক বিবৃতিতে গৌতম আদানির মালিকানাধীন আদানি গ্রুপের এএমজি মিডিয়া নেটওয়ার্ক লিমিটেড (এএমএনএল) জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি আরআরপিআর হোল্ডিংস কিনে নিতে চায়। হোল্ডিংসটির কাছে রয়েছে এনডিটিভির ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ শেয়ার।

এএমএনএল আরো জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এনডিটিভির আরো ২৬ শতাংশ শেয়ারও কিনে নিতে চায়। এজন্য প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে। এ প্রস্তাবে সম্মত হলে প্রতিষ্ঠানটির বড় অংশের শেয়ার চলে আসবে গৌতম আদানির হাতে।

এএমএনএলের প্রধান নির্বাহী সঞ্জয় পুগালিয়া বলেন, যদি এ অধিগ্রহণ বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে এটি হবে এএমএনএলের ইতিহাসে নতুন ধারার গণমাধ্যমের পথে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এএমএনএল চায় ভারতের মানুষকে ক্ষমতাবান করতে। দেশের মানুষ, ভোক্তা এবং যারা ভারতের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে আগ্রহী তাদের তথ্য সরবরাহ করতে চায়।

সঞ্জয় পুগালিয়া আরো বলেন, এনডিটিভি দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম। দেশজুড়ে এটির শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যময় সম্প্রচার সক্ষমতা রয়েছে। আমরা মনে করি, আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সবচেয়ে যোগ্য সম্প্রচারমাধ্যম ও ডিজিটাল প্লাটফর্ম হলো এনডিটিভি।

উল্লেখ্য, গৌতম আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ সাড়ে ১৩ হাজার কোটি ডলার। তিনি এ মুহূর্তে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। এনডিটিভি গ্রুপ মোট তিনটি টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট পরিচালনা করে। এক বিবৃতিতে এনডিটিভি জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রমের প্রাণ, অর্থাৎ এর সাংবাদিকতার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যখন অন্যান্য সংবাদভিত্তিক গণমাধ্যম করপোরেট ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাচ্ছিল, তখনো এনডিটিভি গৌরবের সঙ্গে আপসহীন থেকেছে। সাংবাদিক রাধিকা রয় ও প্রনয় রয়ের হাত ধরে এর যাত্রা। ভারতের যে কয়েকটি গণমাধ্যম বিভিন্ন সময়ে নরেন্দ্র মোদি সরকারের নানা সমালোচনা করেছে, এনডিটিভি তার একটি। ফলে ২০১৪ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই নরেন্দ্র মোদি ও তার দল ভারতীয় জনতা পার্টির রোষানলে পড়তে হয়েছে সংবাদমাধ্যমটিকে। মানি লন্ডারিং থেকে শুরু করে কর ফাঁকি, সব ধরনের অভিযোগই আনা হয়েছে টেলিভিশনটির বিরুদ্ধে। এনডিটিভি ও এর মালিকদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকবার তদন্ত করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বেশ কয়েকটি মামলাও করা হয়েছে, যার অনেকগুলো এখনো অমীমাংসিত।

এ অবস্থায় এনডিটিভি কিনে নিতে চাইছেন এমন এক ব্যবসায়ী যিনি মোদি ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত। ফলে ভারতের বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, এটি কী কেবলই ব্যবসায়ীর অধিগ্রহণ নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে।