চীনের আবাসন খাত ঘিরে সংকট এখনো চলমান। একটি পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছর সম্পত্তি বিক্রির পরিমাণ এক-তৃতীয়াংশ কমে যেতে পারে। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, দেশটির মানুষ এ খাতের বাজারের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে। অন্যদিকে আগে থেকে বিক্রি হওয়া অ্যাপার্টমেন্টগুলোর কাজ শেষ করে ক্রেতাদের বুঝিয়ে দিতে কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ রয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

জানা গিয়েছে, আবাসন খাতের ধস ঠেকতে সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার কোটি ইউয়ানের (৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার) প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। রেটিং এজেন্সি এসঅ্যান্ডপির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি বছরের জন্য বিক্রির যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল, বাস্তবতা তার চেয়েও খারাপ হবে। ধারণা করা হচ্ছে, চীনে সব মিলিয়ে আবাসন লেনদেন ২৮ থেকে ৩৩ শতাংশ কমবে। এ সময়ের জন্য যা পূর্বাভাসের প্রায় দ্বিগুণ।

এর আগে গত সপ্তাহে জানা যায়, প্রায় ১০০ শহরের অ্যাপার্টমেন্টের ক্রেতারা একসঙ্গে মিলে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর সেটি হলো, অসমাপ্ত বাড়িগুলোর জন্য তারা এখন কোনো অর্থ ব্যয় করবেন না। ফলে এ খাতে নতুন সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

ক্রেতাদের এ পদক্ষেপ আবাসন খাতের কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। কারণ এরই মধ্যে তারা ভীষণ তারল্য সংকটে পড়েছে। এসব কোম্পানি নির্ভরই করে ক্রেতার কাছ থেকে পাওয়া অর্থের ওপর। ক্রেতা অর্থ দিলে তার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ চলে, বাড়ি নির্মাণ হয়, ব্যবসায় গতি থাকে। নতুন পরিস্থিতিতে আয়ের পাশাপাশি ঋণও পরিশোধ করতে হবে তাদের। যার কারণে বেশ বিপদেই পড়তে হবে কোম্পানিগুলোকে।

এরই মধ্যে কিছু বড় আবাসন কোম্পানি ঋণ খেলাপি হয়েছে। বিশেষ করে এভারগ্রান্ড। এর কারণ হিসেবে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা ঘিরে তৈরি হওয়া আতঙ্কও অনেকাংশে দায়ী।