কভিড-১৯ মহামারীতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিমানবন্দরগুলো। নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ বর্তমানে কিছুটা স্তিমিত হওয়ায় লোকসান কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে এখনো কর্মী সংকটে ভুগছে যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম বিমানবন্দন হিথরো। এ পরিপ্রেক্ষিতে উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোকে গ্রীষ্মকালীন টিকিট বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে বিমানবন্দরটি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে বরাবরই বিদেশ ভ্রমণের চাহিদা বাড়ে। গত দুই বছর মহামারীর কারণে গৃহবন্দি ছিল যাত্রীরা। বর্তমানে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কিছুটা কমায় এবারের গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণে আগ্রহ আগের তুলনায় বেশি। তবে কর্মী সংকটের কারণে যাত্রী ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে বিমানবন্দরগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রীষ্মকালে দৈনিক যাত্রী সংখ্যা এক লাখে সীমিত করেছে হিথরো, যা বর্তমান যাত্রী সংখ্যা থেকে চার হাজার কম।
সাম্প্রতিক সময় ফ্লাইট স্থগিতের কারণে হাজারো যুক্তরাজ্যের পর্যটক ভোগান্তির শিকার হয়। কভিডের কারণে কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয় হিথরো বিমানবন্দর। এরই মধ্যে গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে বন্ধ হয়েছে দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভিড় সামলাতে ফ্লাইট স্থগিত করছে হিথরো।
এ বিষয়ে উইচ ট্রাভেলের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক গাই হবস বলেন, যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম বিমানবন্দর কর্মী সংকটে ভুগছে। এজন্য উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোকে টিকিট বিক্রি বন্ধের আহ্বান করেছে বিমানবন্দরটি। এতে হাজারো যাত্রীদের মধ্যে আশঙ্কা জন্মেছে। ছুটির পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় যুক্তরাজ্যের পরিবারগুলো। কাজেই কোন কোন ফ্লাইট স্থগিত হবে এ বিষয়ে উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তা প্রকাশ করা প্রয়োজন হিথরোর। একই সঙ্গে বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর যাত্রীদের পুনরায় বুকিংয়ের সুযোগ ও অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে হিথরো বিমানবন্দরের এক মুখপাত্র জানান, নতুন সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে আরো কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর।
হিথরো বিমানবন্দরের প্রধান জন হল্যান্ড-কে বলেন, কয়েক সপ্তাহে দৈনিক যাত্রী ভিড় এক লাখ অতিক্রম করেছে। আমরা দেখেছি এক পর্যায়ে যাত্রীদের পরিষেবা দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। যাত্রীদের সহযোগিতা করতে সময়ও বেশি লাগে।
এ বিষয়ে আমরা যাচাই করে জেনেছি, গ্রীষ্মকালে সর্বসাকুল্যে দৈনিক এক লাখের বেশি যাত্রীদের পরিষেবা দেয়া সম্ভব না।









